পুরান ঢাকার নিরাপত্তা

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

রাজধানী ঢাকায় প্রায়ই আগুন লাগছে; অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে কেমিক্যাল গুদামে, গার্মেন্ট কারখানায়, বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে, সাধারণ মার্কেটে, ফ্ল্যাট বাড়ি এমনকি বস্তিতে। জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে মানুষ। বিনষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ। বিশেষ করে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনের একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত পুরান ঢাকার লাখো মানুষ। পথে বসছে হাজারো পরিবার। এমনই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে গত ১৪ আগস্ট রাতে লালবাগের পোস্তা এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায়। সেদিন ঈদের ছুটিতে কারখানা বন্ধের কারণে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পুরো কারখানা। কারখানাটিতে মূলত চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হতো। কারখানার আশপাশে ছিল অনেকগুলো বসতবাড়ি। ঘনবসতিপূর্ণ এ ধরনের একটি এলাকায় কারখানা স্থাপন করা হলেও এর বিরুদ্ধে কখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

পুরান ঢাকায় অবস্থিত এ ধরনের কারখানা বা রাসায়নিক গুদামের অগ্নিকাণ্ডের বিগত দিনের ইতিহাস বড়ই করুণ। চলতি বছরেরই ১৯ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টার বৃহৎ ভবন ওয়াহেদ ম্যানসনের দোতলায় মজুতকৃত রাসায়সিক পদার্থের বিস্ফোরণে আগুন লাগে। পুড়ে অঙ্গার হলো ৭৯টি তরতাজা প্রাণ। গুরুতর আহত হন ৪১ জন। এর আগে ঘটে যাওয়া নিমতলী ট্র্যাজেডি আজো দেশবাসীকে কাঁদায়। পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানা, রাসায়নিক গুদামে দাহ্য পদার্থ মজুদের পরিণতি যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে নিমতলী ট্র্যাজেডির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এর জ্বলন্ত প্রমাণ। পুরান ঢাকার নিমতলীতে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল তাকে নিছক দুর্ঘটনা বললে ভুল হবে। কতিপয় লোভী ও অপরিণামদর্শী মানুষের অসচেতনতার কারণে সেদিন এতগুলো মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সময় বেঁধে সরকার ব্যবসায়ীদের সব রাসায়নিক দোকান ও গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ঢাকা মহানগরের আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে একটি টেকনিক্যাল কমিটিও গঠন করা হয়। ২০১৪ সালের মধ্যে কেরানীগঞ্জে ২০ একর জমির ওপর রাসায়নিক পল্লী স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তব রূপ নেয়নি। রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী লাল-হলুদ বিপদ সংকেতযুক্ত সাইনবোর্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করাসহ হোল্ডিংয়ে লোকজন বসবাস নিষিদ্ধ ঘোষণারও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এসবের কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি।

পুরান ঢাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানকার সব দাহ্য কেমিক্যালের দোকান, গোডাউন ও শিল্পকারখানা স্থানান্তরের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আবাসিক এলাকায় ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক পদার্থ মজুদ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নিরাপদ স্থানে রাসায়নিক দ্রব্য মজুদকারীদের জন্যও ফায়ার লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড দ্রুত মোকাবেলার জন্য বুড়িগঙ্গার পানি তুলে সরু অলিগলিতে ফায়ার-হাইড্রেন্ট বসানো প্রয়োজন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে জোরদার করতে ডিডিসি, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। অগ্নিনির্বাপণের কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক আধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি দিয়ে দক্ষ জনবল কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে দমকল বাহিনীকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি। মূল কথা, পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম অনতিবিলম্বে দূরবর্তী কোনো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া না হলে যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডজনিত মানবিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

মালিবাগ, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
গাজী মহিবুর রহমান

অনুগ্রহ করে ঘরে থাকুন

আর কে চৌধুরী

আমরা যেন হেরে না যাই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ফোর্স নয়, সেবকও নয়, বন্ধু চাই

নিতাই চন্দ্র রায়

এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে

ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

Bhorerkagoj