এখনো যে কাজগুলো বাকি রয়ে গেছে

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯

বাঙালি ও বঙ্গবন্ধু যে অভিন্ন সেটা বারবার প্রমাণিত হওয়ার পরও আমরা বুঝতে পারি না। আমাদের প্রজন্ম অবশ্য বুঝতে না পারারই কথা। যে সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল তখনো তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। কিন্তু তারপরও তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ডে মানুষ ফুঁসে উঠতে পারেনি। কেন পারেনি তার একশ একটা ব্যাখ্যা দেয়া যেতেই পারে। কিন্তু তাতে কষ্ট বা ক্রোধ লাঘব হবে না। আমরা যা হারিয়েছি তা আর কোনোকালেও ফিরে পাব না। তিনি আমাদের কি কি দিয়েছেন তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু তারপরও এক শ্রেণির মানুষের চোখ খোলেনি।

এবারের ১৫ আগস্ট বিদেশে যারা আওয়ামী লীগের শাখা-প্রশাখা খুলে বসে আছেন তাদের কতটা প্রভাবিত করেছে বোঝা মুশকিল। আমাদের সিডনি শহরে আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমতি নেই। কিন্তু তাদের শোক দিবসের কর্মকাণ্ড কেমন জানি সীমিত। অথচ একসময় এই শহরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের শোকসভাই ছিল বিশাল ও ব্যাপক। যা ইতিহাস ও স্বদেশের শিকড়ে থাকতে প্রেরণা জুগিয়েছিল। আজ কি তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে? আমরা কি ভুলে গেছি এখনো বেশ বিরাট এক অংশ তাঁকে জাতির জনক বলে স্বীকার করতে চায় না? তারা সময় সুযোগ মিললেই তাঁর অন্যায্য সমালোচনা আর নিন্দায় মেতে ওঠে। আমরা কি এও মনে রাখব না বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারিরা এখনো বহালতবিয়তে আছে। ঘাতকদের অনেকেই ধরা পড়েনি। তারা কেউ কিন্তু দেশে নেই। সবাই পালিয়ে আছে বিদেশে। এই তালিকায় এমন একজন আছে যার আস্ফালন আর চিৎকার কোনোদিন ভুলব না আমরা। রেডিও স্টেশন দখল করার পর আমি ডালিম বলছি বলে আস্ফালন করা ঘাতককে বাঙালি মাফ করতে পারে না। এদের বিচার হয়নি এখনো। এ কার আমরা কেন জানি না বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগের বাইরে ভাবতে পারি না। অথচ তিনি আমাদের সবার। যিনি জাতির পিতা তিনি কেন এক দলের হবেন? তাই আমার ধারণা এজন্য সবার কণ্ঠ ও লেখনী সরব হওয়া উচিত। বিশেষত যারা বিদেশে বসবাস করেন তারা যেন সোচ্চার হন। আমরা তো গর্ব করেই বলি, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করি আমরা। সেসব দেশে রাতের অন্ধকারে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতির জনককে হত্যা করে পালিয়ে এসে থাকাটা কি সুখের কিছু? এতে কি প্রমাণিত হয় না উন্নতি আর গণতান্ত্রিকতার ভেতরও গলদ আছে। যারা তাদের মানবিক আশ্রয় দিয়েছে বলে গর্ব করে আমরা কি তাদের কাছে জানতে চেয়েছি মানবিকতার সংজ্ঞা কি? আমি বা আপনি রাত-দুপুরে কারো বাড়িতে চড়াও হয়ে তাদের সবাইকে, এমনকি দারোয়ান, কাজের লোক, শিশুকে হত্যা করে এসে বলব, দেখুন আমার জান নিয়ে টানাটানি, আমাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতা বাঁচান? আর তাই হবে সত্যিকারের মানবিক বা গণতান্ত্রিক আচরণ?

আমাদের মনে রাখা দরকার বাংলাদেশে আমরা যা দেখেছি তা কিন্তু ভুললে চলবে না। কারণ ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের আগে যেসব মিডিয়া সম্পাদক বা সেলিব্রেটিরা বঙ্গবন্ধু বলতে পাগল ছিল তাঁর বাকশাল নিয়ে রহস্য উপন্যাস লিখতে আগ্রহী ছিল তারাই পরদিন ভোল পাল্টে লিখেছিল দেশ নাকি একনায়কের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। কেউ কেউ এই হত্যাকাণ্ডকে ইতিহাসের অমোঘ নিয়তি বলতেই দ্বিধা করেনি। বড় বিচিত্র আমাদের জাতিসত্তা। আমরা কাউকে একসঙ্গে মানি না। সম্মান করি না। দুঃখজনক হলেও সত্য বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শোকের ভেতরও ঝামেলা আছে। আছে নানা ধরনের ধান্ধাবাজি। আমরা চাই খুনিদের বিচার ও শাস্তি। যারা পালিয়ে আছে তাদের সঙ্গে বিএনপির যোগসাজশ সবার জানা। সঙ্গে আছে পাকিস্তানের মদদ। পাকি লবিং আর টাকার সঙ্গে জুটেছিল মধ্যপ্রাচ্যের ঢালাও সরবরাহ। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ এখন আর আগের পলিসিতে নেই। তাদের নিজেদের ঘরেই সমস্যা। বিশ্বায়ন আর মিডিয়ার কল্যাণে দুনিয়া মানুষের হাতের মুঠোয়। আগের মতো ধর্ম সম্প্রদায় বা জাতপাতের নামে সমর্থন মিলবে না এখন। পাকিস্তান নিজেই একঘরে। এমন সময়েও যদি আমরা খুনিদের ধরতে না পারি আর কখন তা হবে?

অজয় দাশগুপ্ত

কলাম লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
গাজী মহিবুর রহমান

অনুগ্রহ করে ঘরে থাকুন

আর কে চৌধুরী

আমরা যেন হেরে না যাই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ফোর্স নয়, সেবকও নয়, বন্ধু চাই

নিতাই চন্দ্র রায়

এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে

ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

Bhorerkagoj