বুলগেরিয়া যেতে চান সান্ত¡না

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯

খয়বার আলী মঞ্জু

লালমনিরহাটের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম সান্ত¡নার। অভাবকে সঙ্গে নিয়েই তার বেড়ে ওঠা। তবুও থেমে থাকেনি। দরিদ্র বাবার সীমিত উপার্জন দিয়েই একটু একটু করে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে এলএলবি শেষ করছেন। সান্ত¡নার আরেকটি পরিচয় আছে। দেশবাসী সবাই এখনো তার সেই পরিচয় না জানলেও এলাকার মানুষের কাছে সান্ত¡না ওই পরিচয়েই বেশি পরিচিত। তিনি একজন মার্শাল আর্ট কন্যা। কৃতিত্বের স্বাক্ষরও রেখে চলেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সান্ত¡না আটটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সপ্তম এশিয়ান তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক, ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ২০তম বিশ্ব তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক এবং চলতি বছর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওপেন সাউথ এশিয়ান তায়কোয়ান্দো আইটিএফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক।

চলতি বছরের ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট বুলগেরিয়ায় বসছে ২১তম বিশ্ব আইটিএফ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য মনোনীত হয়েছে। সেই পাঁচ জনের একজন সান্ত¡না। কিন্তু অভাব এখানেও হানা দিচ্ছে। আর্থিক সমস্যা থাকায় এবং ব্যক্তিগত স্পন্সর না পাওয়ায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়াটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সান্ত¡নার। কিন্তু এখনই থেমে যেতে চান না সান্ত¡না। আশায় আছেন কোনো সহৃদয়বান এবং ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ হয়তো তার পাশে দাঁড়াবেন। বাড়িয়ে দেবেন সহযোগিতার হাত।

সান্ত¡নার পুরো নাম সান্ত¡না রানী রায়। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস গ্রামের কৃষক সুবাস চন্দ্র রায় ও মা যমুনা রানীর বড় সন্তান তিনি। পরিবারে আরো আছে দুই বোন ও এক ভাই। বুলগেরিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া, অংশগ্রহণ ফি, ভিসা ফি, ভিসা সংগ্রহ খরচ ও পোশাক-পরিচ্ছদের খরচ বাবদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দরকার। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইটিএ) সেক্রেটারি জেনারেল সোলায়মান শিকদারের কাছে ওই অর্থ জমা দিতে হবে। এর মধ্যে সান্ত¡না জোগাড় করতে পেরেছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ টিমের সদস্যদের বুলগেরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা। সোলায়মান শিকদার জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা অন্য কোনো সংগঠনের কাছে আবেদন করেও তারা বিদেশে খেলতে যাওয়ার স্পন্সর পান না।

সান্ত¡না বলেন, আমি এগিয়ে যেতে চাই। আমার দরিদ্র বাবার পক্ষে কোনোরকম আর্থিক সহায়তা করা সম্ভব না। আমার জমানো ৪০ হাজার টাকা আছে। এ ছাড়া আর্থিক সাহায্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও লালমনিরহাট তায়কোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশনের অনুক‚লে ৮০ হাজার টাকার একটি চেক আমাকে দিয়েছেন। বাকি টাকা কীভাবে জোগাড় হবে ভেবে পাচ্ছি না। কিন্তু আমি থেমে যেতে চাই না। আমি বুলগেরিয়ায় যেতে চাই। নিজের পারফর্মেন্স দেখাতে চাই। দেশের জন্য সুনাম নিয়ে আসতে চাই।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj