মাতৃত্বকালীন সুবিধা কোনো অনুগ্রহ নয়

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯

সারথী ভৌমিক

কর্মক্ষেত্রে নারীর সুযোগ-সুবিধা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে সবক্ষেত্রে সব নারী যে সমান সুবিধা ও অধিকার ভোগ করছেন তা কিন্তু নয়। এখনো কর্মজীবী নারীদের একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়, তা হচ্ছে গর্ভধারণ। মাতৃত্বকালীন যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার কর্মক্ষেত্রে অনেক কর্মজীবী নারীই তা পাচ্ছেন না। দেখা যায়, নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়সীমা সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে দুরকম। সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বেসরকারি ক্ষেত্রে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন বলে সরকারি খাতে কর্মজীবী মায়েরা এখন মাতৃত্বকালীন ছুটি পাচ্ছেন ছয় মাস। অথচ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন বেসরকারি খাতে কর্মজীবী মায়েদের বেলায় তা চার মাস। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বদৌলতে বেসরকারি শিক্ষকদেরও মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা হয়েছে। সেটা পাওয়া না পাওয়াও আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ইচ্ছানির্ভর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় কর্মক্ষেত্রে নারীদের একটু ছাড় এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হয় বলে অনেক অফিসের বড় কর্তা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এতে কর্মক্ষেত্রে নারীর কর্মদক্ষতা এবং উৎপাদন ক্ষমতাকেই অপমান করা হয়। গর্ভাবস্থা নারীর জীবনে একটা সহজ স্বাভাবিক ঘটনা। এটা কোনো অসুস্থতা কিংবা কোনো প্রতিবন্ধকতাও নয়।

মানবাধিকার খুশী কবীর বলেন, যেহেতু সরকারি বা বেসরকারি মা বলে আলাদা কিছু নেই, সেহেতু সবার জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ সমান করা জরুরি। মা ও শিশুদের মধ্যে অধিকার বণ্টনে বৈষম্য চালু রাখা হলে তা এক সময় ব্যাধি হয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে আচ্ছন্ন করবে। সরকারকে এই বৈষম্য অবসানে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কারা কারা মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয় এবং দেয় না সে পরিসংখ্যানও তৈরি করতে হবে। ছুটি দিলেও কতটা দেয় বা সবেতন ছুটি দেয় নাকি বেতন কেটে রাখে সেসবের হিসাব রাখা জরুরি।

কর্মজীবী নারীর সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইনে বলা আছে, যে প্রতিষ্ঠানে ৪০ জনের বেশি নারী আছেন, সেখানে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশু সন্তানের জন্য দিবাযতœ কেন্দ্রের জায়গা থাকতে হবে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে এই সুবিধা নেই। ফলে কর্মজীবী মায়েরা তাদের সন্তানদের সঠিক যতœ নিতে পারছেন না। সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তায় কাজে মনোযোগও দিতে পারছেন না। অনেক কর্মক্ষেত্রে নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারও।

গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত হলে উৎপাদন যেমন বাড়বে তেমনি প্রতিষ্ঠানও লাভবান হবে। সন্তানকে সময়মতো ব্রেস্ট ফিডিং না করাতে পারলে, কোলের শিশু সঙ্গে না থাকলে মায়েরা কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। তাই প্রতিটি কর্মস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা রয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর। যা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj