কুরবানি ঈদ-উত্তর বন্যা পুনর্বাসন

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯

দেশে প্রতি বছরই ছোট-বড় একাধিক বন্যা হতে দেখা যায়। সেই বন্যার স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে আবার এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে থাকে। এ বছর বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বন্যায় সেসব উপদ্রুত এলাকার আমন ধান, ধানের চারা, শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসলসহ মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও এখন বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু বন্যার প্রকোপে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ সেসব এলাকায় কৃষি ফসলের মধ্যে আমন ধান প্রধান। তারপর মাছ, শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গবাদিপশুও। এসব নিত্যপণ্য পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সেসব এলাকার কৃষককুল এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তাদের চাল-চুলো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। বন্যার পানি চলে গেলেও তাদের পরবর্তী রবি ফসল আবাদ করার জন্য কোনো অর্থই তাদের কাছে নেই। তারা এখন চরম মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।

বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে অনেক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। কুরবানি ঈদ হয়ে গেল। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ঘরে ঘরে হাহাকার। কারণ তার কুরবানি ঈদের জন্য যতœ করে পালন করা গরুটিই হয়তো আর নেই। এ ছাড়া অন্য যেসব গরু বা ছাগল ছিল সেগুলোও খাবারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে মরার উপক্রম। বাকিগুলো কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। তাতে তাদের পারিবারিক চাহিদা মেটেনি।

যে কোনো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন হয় সঠিকভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করার। সেখানে সেক্টর অনুযায়ী প্রয়োজন হয় আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ। শাক-সবজি আবাদ করতে হলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। সে খরচ সেসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মেটাতে পারবে না বিধায় সরকারের ব্যবস্থাপনায় সহজ শর্তে তাদের কৃষিঋণের ব্যবস্থা করে দিতে হবে যা ইতোমধ্যে দেয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মাছ চাষ, পোল্ট্রি শিল্প, গবাদিপশু ইত্যাদির জন্য একই রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বন্যা চলাকালীন এক ধরনের সমস্যা থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় অন্য ধরনের সমস্যা। সবগুলো বিষয়েই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। বন্যা চলাকালীন খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট, মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি পশুখাদ্যের সংকট ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। সে জন্য সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদি সরবরাহের ওপর জোর দেয়া জরুরি।

কাজেই বন্যা চলে যাওয়ার পর কৃষি পুনর্বাসন, ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও রাস্তাঘাট পুনঃসংস্কার করা, জরুরি ওষুধ সরবরাহ ইত্যাদি তাৎক্ষণিক প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আমরা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলার ক্ষেত্রে শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বসে থাকি। কিন্তু এসব বিষয়ে শুধু সরকারকে এককভাবে দায়ী না করে সবাইকেই সাধ্যমতো সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনকেও। তাহলে সম্মিলিতভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করে আগামীর পথচলা মসৃণ করা সম্ভব।

মো. হুমায়ুন কবীর

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
গাজী মহিবুর রহমান

অনুগ্রহ করে ঘরে থাকুন

আর কে চৌধুরী

আমরা যেন হেরে না যাই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ফোর্স নয়, সেবকও নয়, বন্ধু চাই

নিতাই চন্দ্র রায়

এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে

ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

Bhorerkagoj