নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি না করায় বর্জ্য অপসারণে বেগ পান কর্মীরা : ঘোষিত সময়ে বেশির ভাগ বর্জ্য অপসারণ দুই সিটির

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ঘোষিত সময়ের মধ্যেই কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে অনেকটাই সফল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ডেঙ্গুবিরোধী চলমান তৎপরতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন ঘোষিত নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানি না করায় বর্জ্য অপসারণে অনেকটা হিমশিম পোহাতে হয়েছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। এবার দ্রুত বর্জ্য অপসারণকেই অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন দুই মেয়র সাঈদ খোকন ও আতিকুল ইসলাম। এ জন্য শুরু থেকেই তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বরাবরের মতো এবারো স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঈদের দিন দুপুরের পরপরই বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমে পড়েন স্বয়ং দুই মেয়র। সাঈদ খোকন পুরান ঢাকায় আর আতিকুল ইসলাম উত্তরায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন। এর পরপরই মাঠে নেমে পড়েন পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সব কর্মীই।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের দিন দুপুরের আগেই কুরবানি প্রক্রিয়া শেষ করেছে নগরবাসী।

এরপর পশুর বর্জ্য ও নাড়িভুঁড়ি বাড়ির সামনে রাস্তায় ভাগার করে ফেলে রাখতে দেখা গেছে অনেককেই। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য বিভাগের কর্মীরা নির্ধারিত পোশাক পরে বর্জ্য অপসারণে কাজ শুরু করেন। প্রথমে পশুর হাট, মূল সড়ক এরপর অলিগলি ও বাসাবাড়ির সামনে রাখা বর্জ্য অপসারণ করা শুরু করেন। অবশ্য প্রথমদিন হাট ও মূল সড়কে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও পরদিন অলিগলি ও মহল্লার বর্জ্য অপসারণ শুরু করেন তারা। গতকাল বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।

এদিকে কুরবানির পশুর বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবিও করেন দুই মেয়র। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নগর ভবনে আলাদা সংবাদ সম্মেলন থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন তারা।

ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঈদের প্রথম দিন সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭টি পশুর হাটের বর্জ্য এবং কুরবানির পশুর বর্জ্য মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী আমাদের সব ওয়ার্ডের প্রায় শতভাগ বর্জ্য আমরা অপসারণ করতে পেরেছি। এটা আমাদের সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও অনেকে কুরবানি দেন বলে আরো ৫ হাজার টন বর্জ্য জমবে। ঢাকা দক্ষিণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা অপসারণ করবে। তিনি জানান, গত বছর ঢাকা দক্ষিণে কুরবানির পশুর হাটের সংখ্যা ছিল ১৪টি। ঈদুল আজহার ৩ দিনে করপোরেশন মোট ১৯ হাজার ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করেছিল। এ বছর হাটের সংখ্যা ১৭টি। তাই বর্জ্যরে পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। এ বছর কুরবানির বর্জ্য অপসারণের পরিমাণ ২১ হাজার টনে দাঁড়াবে। দক্ষিণ সিটির আওতাধীন এলাকার নাগরিকদের কুরবানির বর্জ্য অপসারণ সেবা পেতে ০৯৬১১০০০৯৯৯-এ হটলাইন নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানিয়েছেন মেয়র। দক্ষিণে এবার নিয়মিত এবং অতিরিক্ত মিলিয়ে মোট ৯ হাজার ৫০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ১৫২টি খোলা ট্রাক, ৮২টি কন্টেইনার বক্স, ৬৯টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ৮০টি ডাম্প ট্রাক, ২৯টি পানির গাড়ি, ২৩টি পে লোডার, ১২টি টায়ারডোজারসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে।

আর ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার আগে তার এলাকায় ১৩ হাজার ২৩৪ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে ফেলা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণে ৪৩৮টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। নিজস্ব ২ হাজার ৪০০ কর্মীর পাশাপাশি ৯ হাজার ৫০০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩, ৭, ১১, ১৭ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সব বর্জ্য অপসারণ করে ওয়ার্ডগুলোকে রাতেই বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা করেছেন কাউন্সিলররা। এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডকেও বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত স্থানে কনটেইনারে বর্জ্য জমা হওয়ার পরে তা ল্যান্ডফিলে পরিবহনের কাজ শুরু হয়। কাঁচা চামড়ার অভাবে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা সাভারের শিল্পনগরী

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj