যে কারণে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ে অনাগ্রহ নগরবাসীর

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : নগরীতে কুরবানির পশু জবাইয়ে এ বছর ৬৪৫টি স্থান নির্ধারণ করেছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (উত্তর-দক্ষিণ)। প্রতিটি ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৫টি করে স্থানে নেয়া হয়েছিল যাবতীয় প্রস্তুতি। ব্যবস্থা করা হয়েছিল প্যান্ডেল, পানি, ইমাম ও কসাইয়েরও। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসব স্থানে পশু কুরবানি করা হয়নি। দুই মেয়রও নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করার জন্য। প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়ি দিয়ে বাসায় মাংস পৌঁছে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তারপরেও রাজধানীর বেশিরভাগ বাসিন্দা পশু জবাই করেছেন নিজ নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা অথবা পার্কিংয়েই। আর কুরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রাখা হয়েছে বাড়ির রাস্তার সামনে অথবা যত্রতত্র। এর ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে।

জানা গেছে, এবার রাজধানীতে প্রায় ৫ লাখ পশু কুরবানির জন্য জবাই করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র কয়েক হাজার পশু সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে জবাই করা হয়। পশুর বড় অংশটি যেখানে সেখানে জবাই হয়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তাতে তোয়াক্কা করেননি তারা। কিন্তু কেন এই অনাগ্রহ? এমন প্রশ্নের জবাবে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, শুধু নির্ধারিত স্থান ঠিক করলেই তো হবে না, সেটা বাসার কাছাকাছি হতে হবে। এসব স্থান দূরে হলে তো পশু ও মাংস আনা-নেয়ার সমস্যা হয়ে যায়। ওইদিন যানবাহনও খুব একটা পাওয়া যায় না। তাছাড়া এবার বৃষ্টির একটা শঙ্কা ছিল। তাই নির্ধারিত স্থানে যাওয়া হয়নি।

শান্তিবাগের বাসিন্দা গোলাম রাবানী বলেন, বাসার সামনের সড়কে কুরবানির গরু জবাই করেছি। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থান কোথায় তা জানি না। শুনেছি প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫টি করে জায়গা তারা নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু সেটা কোথায় তা জানি না। নতুন করে জানারও ইচ্ছা ছিল না, কারণ বাড়ির সামনেই রাস্তা ছিল, তাই সেখানেই কুরবানি করেছি। তার এলাকার প্রতিটি বাড়ির মালিকই নিজ নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা অথবা গ্যারেজে পশু জবাই করেছেন।

মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা আজহার আলী বলেন, আমার বাসা থেকে পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান অনেক দূরে। তাই নামাজ পড়ে সেখানে পশু নিয়ে যাওয়াটা অনেক কষ্টকর। তাই যাওয়া হয়নি। বাড়ির সামনেই কুরবানি করেছি।

এদিকে সিটি করপোরেশনের আইন না মানার কারণে নগরীর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে উল্লেখ করে নগরবাসীকে আরো দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব ভোরের কাগজকে বলেন, নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানি না করার অন্যতম কারণ হলো নগরীর একদল বেপরোয়া লোকের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন ও সরকার যথোপযুক্ত আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে। এ বছর প্রায় ৫ লাখের মতো পশুর হাসিল হয়েছে। এর মধ্যে দেড় লাখ মানুষের বেপরোয়া আচরণে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের শহর ভাগাড়ে পরিণত হতে বসেছে। এডিস মশা জন্ম নেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা বাড়ি বাড়ি, দুয়ারে দুয়ারে পশু কুরবানি করে ভাগাড়ে ময়লা না ফেলে যত্রতত্র ফেলে রাখবে, আর সিটি করপোরেশন সেখানে গিয়ে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করবে, এমনটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj