ফাঁকা ঢাকায় মুখর বিনোদন কেন্দ্র

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

শরীফা বুলবুল : টানা দাবদাহ আর তীব্র গরমের পর ঈদের দিনটা ছিল বেশ রৌদ্রকরোজ্জ্বল। এমন ঝলমলে দিনে চনমনে আনন্দে রাজধানীবাসী বেরিয়ে পড়েন আনন্দলোকের সন্ধানে। বিশেষ করে শিশু আর তরুণ-তরুণীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ¡াস আর আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন রাজধানীর নান্দনিক স্থাপনা হাতিরঝিল, আগারগাঁওয়ের শ্যামলী শিশুমেলা, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, যমুনা ফিউচার পার্ক শপিংমলের অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এমনই উচ্ছ¡াসের চিত্র দেখা গেছে। এদিকে শিশুমেলা বাদেও ভিড় দেখা গেছে, মিরপুরের চিড়িয়াখানায়। ঢাকা চিড়িয়াখানা ছিল জনারণ্য। আর চিড়িয়াখানার পাশে জাতীয় উদ্যানও নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় ছিল মুখর। এমনকি ফাঁকা রাজধানীর সড়কগুলোতেও অনেককে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

তবে ঈদের পরদিন সকাল থেকেই শেষ শ্রাবণের বৃষ্টি বিনোদনপিয়াসী মানুষকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকলেও মেঘপরীদের উপেক্ষা করে ঈদের ছুটি পুরোটা উপভোগ করতে ভুল করেনি রাজধানীবাসী।

ঈদের দিন বিকেলে দেখা গেল হাতে রাইডের টিকেট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন ব্যবসায়ী সানি মজুমদার আর শিক্ষক রোকসানা মজুমদার দম্পতি। তারা দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে শিশুপার্কে আসেন উত্তরা থেকে। সানি মজুমদার ভোরের কাগজকে বলেন, ঈদ ছাড়া তো অবসর পাই না। ভিড় ঠেলে এদিকে আসতে আসতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে বাচ্চারা। আজ তো রাস্তা ফাঁকা এক টানেই চলে এলাম। এখন অপেক্ষা করছি রাইডের জন্য। তাদের মতো অনেকে শিশুদের নিয়ে গরমের মধ্যে অপেক্ষা করছিলেন। শ্যামলীর শিশুমেলায় দায়িত্বরত মোহাম্মদ শামসুল আলম জানান, শিশু মেলায় শিশুদের জন্য ৪০টির বেশি বিভিন্ন ধরনের রাইড রয়েছে। তেমনি বড়দের জন্যও রাইড যুক্ত করা হয়েছে। এলিফ্যান্ট রোড থেকে হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা মাহবুব আলম এবং আরিফা মাহবুব বলেন, মেয়ে আমব্রিন এবং ছেলে আরিককে নিয়ে প্রায় সবসময়ই ছুটিগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করি। কাজের চাপে অন্য সময় ঘুরতে বেরোনোটা একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায়। তবুও অবসর পেলে চেষ্টা করি পরিবারকে সময় দিতে। ঈদের ছুটিটা তো পরিবারের জন্যই। তাছাড়া ঈদের আনন্দটা মূলত শিশুদেরই। শিশুদের আনন্দের মধ্যে নিজের আনন্দটা খুঁজে পাই। তাই তাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

এদিকে ঈদের দিন সকাল থেকেই জমজমাট দেখা গেছে নগরীর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হাতিরঝিল। রাজধানীর সাধারণ আর মধ্যবিত্তের বিনোদন কেন্দ্র বলতে এখন হাতিরঝিলই প্রধান হয়ে উঠেছে। সকাল দুপুর বিকেল সন্ধ্যা থেকে রাতেও সেখানে ভিড় জমান হাজারো মানুষ। বিনোদনপ্রেমীদের জন্য নতুন সাজে প্রস্তুত করাও হয়েছে হাতিরঝিল চক্রাকার বাস, ওয়াটার বাস। নামানো হয়েছে নতুন বোটও। নির্মল বাতাসে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা আর ঝিলের পানিতে আলোর নাচন সঙ্গে থিম সং শুনতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করেন বহু ভ্রমণপ্রিয় মানুষ।

ঈদের পরের দিন রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশের জন্য বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় ছিল। তবে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারির কারণে জাদুঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা। সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের বিনা টিকেটে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করার সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে সরকার।

এদিকে হালকা বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিকেলের পর কিছুটা ভিড় দেখা গেছে সংসদ ভবনের সামনে এবং পেছনে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে সিনেমা ও কিডস্ জোন খোলা থাকায় অনেকেই এখানে বেড়াতে আসেন। বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত সময় কাটান অনেকেই। আবার কেউ আসেন সিনেমা দেখতে। কেবল বিনোদনকেন্দ্রেই নয়, রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থানগুলোতেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj