গণমাধ্যমের অবদানে বঙ্গবন্ধু

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিক ছিলেন। এই বিষয়টি অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আমরা অনেক কথাই জানি, যা আমাদের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতার তেইশ বছরে চৌদ্দবার গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় চৌদ্দ বছর কারাগারে কাটান, দুবার ফাঁসির মঞ্চে যান। আবার কোনো কোনো বিষয় আমাদের অজানা। এসব জানা-অজানা, প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত জীবন নিয়ে এখন নানামুখি গবেষণা হচ্ছে। এ রকম একটি অধ্যায়- সংবাদপত্রে তথা গণমাধ্যমে তাঁর অবদান।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জন বা সবশেষে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নানাভাবে তিনি ইত্তেহাদ, মিল্লাত, ইত্তেফাক, নতুন দিন, স্বদেশ ইত্যাদি পত্রিকায় কখনো মালিক, কখনো প্রতিনিধি, কখনো পরিবেশক, কখনো উৎসাহদাতা, কখনো বিক্রেতা, কখনো উদ্যোক্তার ভূমিকায় গণমাধ্যমের বান্ধব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দেশে, জনগণ, রাষ্ট্রের কল্যাণে রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে রাজনৈতিক জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই সংবাদপত্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সেতুবন্ধন রচনা করে হয়ে ওঠেন সংবাদবান্ধব। ফলে তিনি প্রায় সন্ধ্যায়, রাতে আড্ডা দিতেন সংবাদপত্র অফিসে। সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সার্বক্ষণিক এবং পূর্ণমাত্রায়।

বঙ্গবন্ধু শুধু কলকাতা বা ঢাকার সাংবাদিকদের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন না। লাহোর তথা দেশের বাইরের সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করতেন। তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লেখেন, ‘লাহোরে যে হোটেলে আমি থাকতাম তার দুটা রুম ভাড়া নিয়ে মিস্টার আজিজ বেগ ও মিস্টার খুরশিদ (যিনি আজাদ কাশ্মিরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন) সাপ্তাহিক গার্ডিয়ান কাগজ বের করতেন। এরা পাকিস্তান টাইমসে আমার বিবৃতি দেখেছিলেন এবং বিবৃতির কিছু অংশ গার্ডিয়ান কাগজে বের করেছিলেন। আমি তাদের সঙ্গে দেখা করলাম এবং সব বিষয়ে আলোচনা করলাম। গার্ডিয়ান প্রতিনিধি আমার সাথে দেখা করে একটা সাক্ষাতের রিপোর্ট প্রকাশ করবেন। আস্তে আস্তে লাহোরের রাজনীতি কি রকম তা জানতে পারলেন, আমি লাহোরে আছি’। (দ্র : বঙ্গবন্ধু, সাংবাদিক ও সংবাদপত্র/ মিজানুর রহমান মিথুন, জাগোনিউজ২৪.কম, ১৪ আগস্ট ২০১৬, ঢাকা)

ষাটের দশকের একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন প্রয়াত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ তাঁর ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’ সিরিজের দ্বিতীয় বই সত্য বাবু মারা গেছেন-এ; যাতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি বঙ্গবন্ধুর অঙ্গীকার এবং সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত হৃদ্যতার কথা জানা যায়। (দ্র : সংবাদপত্রের পাশে একজন শেখ মুজিব/ সোহরাব হাসান, দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ০৮, ২০১৯, ঢাকা।)

বঙ্গবন্ধুর এসব প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়ে ২০১৬ সালে ‘প্রকৃতি’ প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে হাসান শান্তনু ‘সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আশি পৃষ্ঠার তথ্যবহুল গ্রন্থ। বঙ্গবন্ধুর এক অনালোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শান্তনু পাঁচ পর্বে তুলে ধরেছেন। পর্বগুলো হচ্ছে, যথাক্রমে-

ক] নতুন দিনের সাংবাদিক শেখ মুজিব,

খ] ইত্তেহাদের ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি’ মুজিব,

গ] রাষ্ট্রপিতা মুজিব মিল্লাত পত্রিকার বিক্রেতা,

ঘ] ইত্তেফাক ও বঙ্গবন্ধু,

৫] বঙ্গবন্ধুর প্রেরণায় সাহিত্য পত্রিকা স্বদেশ।

সামষ্টিক রূপরেখায় তিনি সাংবাদিক; কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রকৃত অর্থে বা পরিপূর্ণ পেশায় ‘সাংবাদিক’ ছিলেন না। তাঁকে অযথা জোর করে সাংবাদিক হিসেবে আখ্যায়িত করা অথবা সাংবাদিক ‘উপাধি’ দেয়া যথার্থ নয়; বরং বিতর্কিত। যদি ‘গণমাধ্যমের অবদানে বঙ্গবন্ধু’, ‘সাংবাদিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু’ অন্ততপক্ষে ‘সাংবাদিকতায় বঙ্গবন্ধু’ হলেও তা প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু সরাসরি ‘সাংবাদিক’ বলা তাঁর জীবনের সাথে অনেকটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ!

যদিও কিছুদিন তিনি দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ (পূর্ব বাংলার) প্রতিনিধি ছিলেন। এ তথ্যটি জানা যায় ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে- ‘আমি ইত্তেহাদ কাগজের পূর্বপাকিস্তানের প্রতিনিধি ছিলাম। মাসে প্রায় তিনশ টাকা পেতাম। আমার কাজ ছিল এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে টাকাপয়সা আদায় করা, আর ইত্তেহাদ কাগজ যাতে চলে এবং নতুন এজেন্ট বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ করা যায় সেটা দেখা।’ তবে তা রিপোর্টার বা প্রতিবেদক কিংবা সংবাদদাতা হিসেবে নয়!

এ নিয়ে এপ্রিল ২১, ২০১৬ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম চমৎকার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে ‘সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু : একটি অনন্য পাঠ অভিজ্ঞতা’ আলোচনায়। আলোচকের বক্তব্য : ‘গ্রন্থনামের শব্দজোড়টি প্রথমেই আমাদের একটি প্রশ্নের সম্মুখীন করে দেয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কি সাংবাদিক ছিলেন? এটি গ্রন্থপাঠের আগের প্রশ্ন। লেখক যেহেতু ‘সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু’ নামটি দিয়েছেন, সেহেতু অবচেতনে এরকম একটি ধারণা সমেত পাঠ শুরু হবে, তিনি নিশ্চয় সাংবাদিক ছিলেন!

ক/ গ্রন্থে প্রশ্নটির উত্তর লেখক দিয়েছেন তিনটি জায়গায়। প্রথম অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, ‘শেখ মুজিব রাজনীতির মঞ্চে দৃপ্ত কণ্ঠে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বক্তব্য দেন, পাকিস্তানি শাসকদের সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নির্যাতনের ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানান, আবার মঞ্চ থেকে ফিরে পত্রিকার কার্যালয়ে বসে লেখালেখিও করেন’। (পৃষ্ঠা : ০৯)

খ/ একই অধ্যায়ে ‘সাপ্তাহিক নতুন দিন’র আলোচনা সূত্রে লেখক লেখেন, ‘পত্রিকাটিতে শেখ মুজিব নিজেও সাংবাদিকতা করেন বলে তথ্য পাওয়া যায়’। (পৃষ্ঠা : ১৭)

গ/ তৃতীয়টির পটভূমি লাহোর। তৎকালীন মুসলীম লীগের সভাপতি খাজা নাজিমুদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে ১৯৫২ সালে পাঠানো চিঠির একটি লাইন ছিল, ‘রিপোর্ট পাঠাইলাম’। ইত্তেফাকের জন্য। (পৃষ্ঠা : ২১)’।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আঁকা একটি অসাধারণ জলরঙ-এর শিল্পকর্ম আছে। ‘ফেসবুকে দেখি একটা পেইন্টিং ঘন ঘন নিউজ ফিডে আসতে শুরু করলো। পেইন্টিংটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এঁকেছেন। ১৯৯৪ সালে। তখন তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন।… সরকারের ম্যাজিস্ট্রেট ছবির হাট ভাঙচুর করার পর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আঁকা ছবি ভার্চুয়াল মিডিয়ার দেয়ালে দেয়ালে ঘুরে বেড়াইতে থাকলো। পুরা একটা ব্রেকিং নিউজ। (দ্র : ছবির হাট এবং প্রধানমন্ত্রীর আঁকা ছবি/ শামীমা বিনতে রহমান। আমাদের কথা/ জুন ১২, ২০১৪, ঢাকা।)

তাই বলে কি সেই ছবিটির ব্যাখ্যা-বর্ণনা দিয়ে ‘চিত্রকর শেখ হাসিনা’ আখ্যা দেয়া যায়? বঙ্গবন্ধু অনেক সময় রবি ঠাকুরের কবিরা পাঠ করেছেন; তাই বলে কি- তাঁকে ‘আবৃত্তিকার বঙ্গবন্ধু’ খেতাব দেবো! জিল্লুর রহমানের ‘তৃতীয় মাত্রা’য় প্রতি ঈদ-বিনোদনে মন্ত্রী-সাংসদ-রাজনীতিবিদরা গান করেন; সে জন্য তাঁরা সঙ্গীতশিল্পী?

যাই হোক, আক্ষরিক অর্থে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে পুরোপুরি পাওয়া যাবে না, ভাবার্থে মিলবে। তবে বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত-শোষিতদের অধিকার আদায়, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জন বা সবশেষে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নানাভাবে সংবাদপত্রের বান্ধব হিসেবে সরাসরি এবং সার্বক্ষণিক জড়িত ছিলেন। শুধু সেই সময়েই যে গণমাধ্যমের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, শুধু তা নয়। পরবর্তী সময়েও গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

যেমন, ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যখন দেশের সমগ্র রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে ‘বাকশাল’ গঠন করা হয়; তখন ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন চারটি জাতীয় দৈনিক ছাড়া বাদবাকি সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যায়। যা বঙ্গবন্ধু শাসনের একটি বড় সমালোচনার জায়গা হিসেবে দেখেন অনেকে। কিন্তু চাকরি হারানো সাংবাদিকদের জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দায়িত্বশীল মানবিক আচরণের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। (দ্র : কামাল লোহানী/ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু। বৈশাখী টিভি, আগস্ট ০৫, ২০১৯, ঢাকা।)

চাকরিচ্যুত প্রায় সকল সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের কর্মীদের প্রশাসনের নানা জায়গায় নানা পদে পুনর্বাসন এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে বিরল ভূমিকা রাখেন, যা ঐতিহাসিক সত্য! এ ছাড়াও তিনি নানাভাবে সাংবাদিক, সংবাদপত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ‘বঙ্গবন্ধু কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠ করলে তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সংবাদপত্রের ওতপ্রোত ঘনিষ্ঠতার কথা জানা যায়। বিশেষ করে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা অনেকবার বলেছেন। যেমন : ক] ৮ জুন ১৯৬৬ সালে লিখেছেন, ‘ধর্মঘটের কোনো সংবাদ নাই। শুধু সরকারি প্রেসনোট। ইত্তেফাক, আজাদ, অবজারভার সকলেরই একই অবস্থা। একেই বলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা! ইত্তেফাক মাত্র ৪ পৃষ্ঠা।…খবরের কাগজগুলো দেখে আমি শিউরিয়া উঠলাম। পত্রিকায় নিজস্ব খবর ছাপতে দেয় নাই।’

খ] ১৭ জুনের রোজনামচায় তিনি লিখেছেন, ‘ইত্তেফাক কাগজ আসে নাই। এর পরিবর্তে আমাকে দৈনিক পাকিস্তান দিয়েছে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলল কাগজ বন্ধ। সরকার নাকি বন্ধ করে দিয়েছে। আর খবর পেলাম রাতে মানিক ভাইয়ের কাছে একটা নোটিশ দিয়ে গিয়েছে। আমরার মনে হলো সরকার নিশ্চয়ই কাগজ বন্ধ করে দিয়েছে। মোনায়েম খান সব পারে। বানরের হাত শাবল।’

গ] ৩০ জুনের রোজনামচায় আছে, ‘আজ ইত্তেফাক ও ইত্তেফাকের সম্পাদকের বিরুদ্ধে হামলা, কাল আবার অন্য কাগজ ও তার মালিকের উপর সরকার হামলা করবে না, কে বলতে পারে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে তো কিছুই নাই। এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেছে। পাকিস্তানকে শাসকগোষ্ঠী কোন পথে নিয়ে চলেছে ভাবতেও ভয় হয়। আজ দলমত-নির্বিশেষে সকলের এই জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত।

স্বাধীনতার পর সংবাদপত্র শিল্পের ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল, জনবান্ধব করা, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রসার ঘটানো, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা এবং হলুদ সাংবাদিকতা রোধের লক্ষ্য নিয়ে তাঁর উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের অ্যাক্টের আলোকে (প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ১১ (বি) ধারা, ২০০২ সালে যা সংশোধিত।) একটি আধা বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা হয় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের। (দ্র : প্রেস বার্তা/ শামীমা চৌধুরী। ১৪ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস ২০১৭, ঢাকা।)

১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধু প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন। এ দিন তিনি তাঁর ভাষণে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে বলে উল্লেখ করেছিলেন। সে দিন তিনি বলেছিলেন : ‘মাননীয় সভাপতি, সুধীবৃন্দ ও সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা জানেন, আমি আপনাদের অনেক সহকর্মী শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, তাঁরা আমার ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। আমি অনেকদিন তাঁদের সঙ্গে জেলখানায় কাটিয়েছি। এবারের সংগ্রামে তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা আজ আমাদের মধ্যে নাই। তেমনি নাই ৩০ লক্ষ লোক, যাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছেন স্বাধীনতার জন্য। তাঁদের কথা চিরদিন আমাদের স্মরণ রাখতে হবে এবং যে আদর্শের জন্য তাঁরা জীবন দিয়েছেন, সে আদর্শে যদি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, তাহলে তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে।’……

……সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার কয়েকটা স্পষ্ট আরজ আছে। আপনারা জানেন, বিপ্লবের মাধ্যমে এই স্বাধীনতা এসেছে এবং সে বিপ্লব ছিল রক্তক্ষয়ী। এমন বিপ্লবের পরে কোন দেশ কোন যুগে এতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে নাই, যা আমরা করছি। আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এ জন্য আপনাদের কোন কাজ কখনো কোনরকম হস্তক্ষেপ করি নাই……

(সূত্র : নিরীক্ষা, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট,জুলাই আগস্ট, ২০১৩, পৃষ্ঠা নং- ৭-৯, ১৮-১৯)।

এভাবেই তিনি তাঁর গোটা রাজনৈতিক জীবন সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ত রেখে ছিলেন।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj