রপ্তানি বৈচিত্র্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবেই প্রতি বছর বাণিজ্য সহায়তা পায় বাংলাদেশ। নগদ অর্থ না হলেও প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, কারিগরি সহায়তা বাবদ এ বাণিজ্য সহায়তার শীর্ষ গ্রহীতাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। কিন্তু বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রপ্তানি খাত এখনো বৈচিত্র্যহীন। রপ্তানি পণ্যে কিছুটা বৈচিত্র্য এলেও আসেনি রপ্তানি বাজারে।

সম্প্রতি ‘এইড ফর ট্রেড ইন এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক: প্রমোটিং ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন এন্ড এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। প্রতিবেদনে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্য সহায়তার গ্রহীতা দেশগুলোর পাশাপাশি দেশগুলোর রপ্তানি পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়।

প্রতিবেদনে বাণিজ্য সহায়তাপ্রাপ্ত দেশগুলোর চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত শীর্ষ বাণিজ্য সহায়তাপ্রাপ্ত দেশগুলোর ছক দেয়া হয়। দেখা গেছে, আলোচ্য ১২ বছরে প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহায়তার পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ পরিমাণ সহায়তা নিয়ে ছকে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। প্রথম অবস্থানে থাকা ভারতে বাণিজ্য সহায়তার পরিমাণ বার্ষিক ২১৬ কোটি ডলার। ভিয়েতনামে ১৯০ কোটি, ইন্দোনেশিয়ায় ৭৯ কোটি ও পাকিস্তানে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।প্রতিবেদনে এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন ইনডেক্স বা রপ্তানি বৈচিত্র্যের সূচকও উপস্থাপন করা হয়েছে। সূচকে পণ্য ও বাজার দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বের বিভিন্ন রপ্তানিকারকের পরিস্থিতি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০০০ এই ছয় বছরের তুলনায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ এই পাঁচ বছরে পণ্য বৈচিত্র্য বেশি ছিল। অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য কিছুটা হলেও হয়েছে। যদিও বাজার বৈচিত্র্যে ২০১৩ থেকে ২০১৭ এই পাঁচ বছরের তুলনায় ১৯৯৫ থেকে ২০০০ এই ছয় বছরে বেশি ছিল। অর্থাৎ বাজার বৈচিত্র্যে বাংলাদেশ পিছিয়েছে।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হাসান বলেন, সম্প্রতি ভিয়েতনাম ইইউর সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট করেছে, নিকট ভবিষ্যতে আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হবে।

কিন্তু এ বিষয়গুলো মোকাবেলায় প্রস্তুতি হিসেবে এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে তেমন কোনো মূল্যায়ন হয়নি। ইইউতে যদি ডিউটি ফ্রি, কোটা ফ্রি না থাকে তাহলে আমাদের কী করণীয়, ব্রেক্সিটের ফলে বাংলাদেশে প্রভাব কেমন হবে, মূল্যায়নের মাধ্যমে এসব বিষয় উঠে আসতে পারত। বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পরিকল্পনাটাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন, যা এইড ফর ট্রেডের মাধ্যমে হবে বলেই প্রত্যাশা করা হয়।

প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী পোশাক খাত ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৪০ লাখের মতো মানুষের কর্মসংস্থান জুগিয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি নারী, যারা দরিদ্র ও প্রথমবারের মতো শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে।

এদেশে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের উত্থান পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী মেয়েশিশুর শিক্ষার হার বেড়েছে, যা পক্ষান্তরে কিশোরী বয়সে বিয়ের সংখ্যাও কমিয়েছে। কারণ এ শিল্পের কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশই নারী।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj