ডেঙ্গু আতঙ্কে ম্রিয়মাণ ঈদ যাপন

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ত্যাগের মহিমায় যথাযথ ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে গত ১২ আগস্ট সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কুরবানি করছেন। তবে এবার ডেঙ্গুর আতঙ্ক আর দেশের বিশাল অংশে বন্যার বিপর্যয়ের কারণে ঈদ উদযাপনে আনন্দ-উচ্ছ¡াসে স্বতঃস্ফ‚র্ততা কম ছিল।

এবার ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির উদ্যোগে রাজধানীর ৫৮২টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতসহ ঈদুল আজহার ৩১২টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭০টি স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারো দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সরকারি সংস্থাসমূহ জাতীয় কর্মসূচির

আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে। সরকারি এবং বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়াও ‘ঈদ মোবারক’ লিখিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোস্টে প্রদর্শিত হয়। রাতে নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সকল শিশু পার্কে প্রবেশ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। কুরবানির পশুর বর্জ্যে যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সিটি করপোরেশন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দলীয় নেতা, কর্মী, বিচারক এবং বিদেশি ক‚টনীতিকসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে গিয়ে ফাতেহা পাঠ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশবাসীর জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

ঈদ উপলক্ষে গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ছিল তিনদিনের সরকারি ছুটি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বরাবরের মতো এবারো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে অগণিত মানুষ নাড়ির টানে ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। ঐতিহ্যগতভাবে ঈদের দিন আনন্দের হলেও ডেঙ্গু আতঙ্ক ও দেশের বিশাল একটি অংশে বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগে সে আনন্দে খানিকটা ভাটা পড়ে। তারপরও আনন্দ উদযাপনে কমতি নেই রাজধানীসহ দেশবাসীর। হৈ-হুল্লোড়, ঘোরাঘুরি, পাড়া-মহল্লায় আড্ডা, ঈদ আনন্দের সংস্কৃতি বছরের পর বছর অনেকটা এরকমই। তবে এবার বৃষ্টি ও গরম তাতে কিছুটা হলেও বাগড়া দিয়েছে।

ঈদের ছুটির ৩ দিন রাজধানীর চিরচেনা যানজটমুখর রাস্তা ছিল ফাঁকা। ফাঁকা রাস্তায় হুঁস করে বেরিয়ে গেছে মোটরসাইকেল আরোহী তরুণের দল। অনেকে বের হয়েছে পিকআপ ভ্যান নিয়ে। কেউ কেউ বেরিয়েছে রিকশা করে।

বিভিন্ন পার্ক, ধানমন্ডি-গুলশান লেক, হাতিরঝিলসহ বিনোদন স্পটগুলোতে যেমন উপচে পড়া ভিড় ছিল, তেমনি ভিড় জমেছে সিনেমা হলগুলোতেও। পরিবারের সবাই একসঙ্গে সিনেমা দেখেছে। উচ্চবিত্তদের জন্য ছিল বিভিন্ন বার বা দেশের বাইরের বিভিন্ন স্পট। ঈদের দিনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাসাতেই টিভি দেখে সময় কাটান কেউ কেউ। অনেকেই ছুটেছেন বিভিন্ন হাসপাতালে নিকটজনের পাশে সময় কাটাতে। কেউ গেছেন বৃদ্ধাশ্রমে, কেউ বা কারাগারে নিকটজনের সান্নিধ্য পেতে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj