রাজধানীর বাইরের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী বেড়েই চলেছে

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : রাজধানী ঢাকার বাইরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে সবখানেই চিকিৎসাসেবা ঠিকমতো চলছে বলে জানান চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট নার্সরা। ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। তারা আরো জানান, রোগীদের বেশির ভাগই ঢাকা বা অন্য জায়গায় আক্রান্ত হয়ে আসা। এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

কুষ্টিয়া : ঈদের পর থেকে কুষ্টিয়ায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে কুষ্টিয়া শহর ও জেলার তিনটি উপজেলায় ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুষ্টিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। সকাল ৯টার পর থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ২৬০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্ত সব রোগী রাজধানীসহ অন্য জেলা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু মোকাবেলায় হাসপাতালে সব ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা হিসেবে আক্রান্ত রোগীকে মশারি ও প্যারাসিটামল, স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।

পাবনা : পাবনায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৪৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন, যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। গত মঙ্গলবার রাতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আরো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় নানা কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে পাবনা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট, আওয়ামী লীগ, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

জানা যায়, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মোসাব্বির হোসেন মাহফুজ (২০) পাবনা সদর উপজেলার চক রামানন্দপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (এডি) ডা. রঞ্জনকুমার দত্ত ও পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মাহফুজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এডি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনায় ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ হাসপাতালটিতেই ২৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৬ জন।

মাহফুজের মামা নাহিদ হোসেন জানান, মাহফুজ এ বছর এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকায় কোচিং করতে গিয়েছিল। ঢাকাতে অবস্থানকালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। ঈদে বাড়ি আসার পর মঙ্গলবার বিকেলে তাকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ২০ মিনিটে মারা যায় মাহফুজ।

গত ৮ আগস্ট সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাবনায় তিনটি স্থানে এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়ার কথা স্বীকার করে সেগুলোকে নির্মূল করার কথা বলেন। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, পাবনার সব প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন মানুষের মধ্যে জনসচেতনতায় নানা কর্মকাণ্ড চলছে। প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রশাসন সব সমস্যা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছে। পাবনার মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে পরামর্শ দিচ্ছি।

শিবচর (মাদারীপুর) : শিবচরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজি আবদুল মজিদ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত এক সপ্তাহ ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১টার দিক উপজেলার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে উপজেলার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, কয়েক দিন আগে হাজি আবদুল মজিদ ঢাকায় তার ছেলের বাসায় বেড়াতে যান। সেখানে তার জ্বর হলে গত ৪ আগস্ট ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার রক্ত পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরদিন ৫ আগস্ট তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১১ আগস্ট হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে তার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন গ্রামের বাড়ি উপজেলার ভেন্নাতলায় আসেন। রাত ১টার দিকে হঠাৎ আবদুল মজিদ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এর আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিবচরের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত রোগীর ছেলে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার আব্বাকে গত এক সপ্তাহ ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। তার শরীরে প্লাটিলেট ২০ হাজার ছিল।

জামালপুর : জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ নারী-পুরুষ ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ১৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও ১৩০ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। বর্তমানে ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে আবুল হোসেন (৫০) নামে এক রিকশাচালক স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন জামালপুর আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারের হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সরা। নার্সরা জানান, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় ডেঙ্গু আক্রান্ত সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের করগ্রামের আবুল হোসেন (৫০) জানান, ঈদের দিন রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ জ্বর আর মাথা ও শরীর ব্যথা শুরু হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, গত ৫ বছরে তিনি ঢাকায় যাননি। কখন কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তা তিনি জানেন না। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শফিকুজ্জামান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২২ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে ১৩০ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে দু-চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হলেও কেউ মারা যাননি। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে, রোগীদের সঠিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। ঢাকা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে তাকে নিয়ে আসি। রাত ১টার দিক

তার মৃত্যু হয়।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj