চট্টগ্রামে সিন্ডিকেট চক্র! : ফেলে দেয়া লক্ষাধিক পচা চামড়া ভাগাড়ে

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে চট্টগ্রামে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে আড়তদারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এক লাখেরও বেশি কুরবানির পশুর চামড়া বাধ্য হয়ে রাস্তায় ফেলে দেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। রাস্তা থেকে সেই পচা চামড়া ট্রাকে করে আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ অবস্থায় মেয়র আ জ ম নাছিরও অনেকটা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এর পেছনে কোনো চক্রান্ত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়া উচিত। তাই প্রশ্ন উঠেছে চামড়ার বাজার ধ্বংসের পেছনে কোন সিন্ডিকেট কাদের স্বার্থে কাজ করেছে?

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়ার বাজারে এই অরাজকতা সৃষ্টি করেছেন আড়তদাররা। আড়তদারদের সিন্ডিকেট কারসাজি করে পাইকারি ব্যবসায়ী ও তাদের এজেন্টের মাধ্যমে শুরু থেকেই কাঁচা চামড়ার বাজারের দরপতন করে রাখে। তারা বলেন, যে দামে তারা চামড়া কিনেছেন তার অর্ধেকেরও কম দামে আড়তদারদের কাছে তা বিক্রি করতে বাধ্য হন। ৫০ টাকার ওপরে চামড়ার দাম উঠেনি। শেষ দিকে ৫০ টাকাতেও কেউ না কেনায় চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে যায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সিরাজুল ইসলাম নামে একজন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি বলেন, চামড়া বিক্রি করতে এসে মাথায় হাত। দেখি প্রতি চামড়া ৫০ টাকার বেশি দাম উঠেই না। লোকসান দিয়ে কিছু চামড়া বিক্রি করেছি। শেষ দিকে চামড়া বিক্রিই হয় না। একেকটা চামড়ার দাম ২০ টাকা কেনটা ৩০ টাকা। চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কতক্ষণ আর বসে থাকা যায়। তাই রাস্তায় ফেলে চলে যাই। চামড়ার ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত পুরো টাকাই লোকসানে গেল।

তবে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের কয়েক বছরের বকেয়া পাওনা প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তাই টাকার অভাবে চামড়া কেনা সম্ভব হয়নি। সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত আগে জানালে এবং কুরবানির আগে বকেয়া পরিশোধে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে এ অবস্থা হতো না। কাদের বলেন, সমিতির সদস্য ১১২ জন। এর বাইরে আরো ১৫০ আড়তদার আছেন চট্টগ্রামে। এবার শুধু ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পেরেছেন।

এদিকে রাস্তা ও ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া প্রায় এক লাখ পচা চামড়া অপসারণ করেছে চসিক। দুইটি আবর্জনার ভাগাড়ে এসব পচা চামড়া ফেলা হয়েছে। সিটি মেয়র নাছির উদ্দিন এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামও না পাওয়ার পেছনে কোনো চক্রের দুরভিসন্ধি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিক্রি করতে না পারা চামড়া পচবে, আর সেই চামড়া অপসারণ করতে হবে এ ধরনের কোনো ভাবনাই আমাদের ছিল না। কুরবানির দিন পশুর বর্জ্য, রক্ত ও উচ্ছিষ্টাংশ দ্রুত অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু পচা চামড়া অপসারণের কাজটি ছিল এক নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে এ কাজটিও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আমরা সম্পন্ন করেছি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj