চামড়ার যথাযথ মূল্য নেই : নদীতে ফেলে, মাটিতে পুঁতে নীরব প্রতিবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

জাহিদুল ইসলাম, সিলেট ব্যুরো : সিলেটে সংগৃহীত কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নীরব প্রতিবাদ হিসেবে সেগুলো ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে কয়েকটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কোথাও কোথাও মাটিতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি নদীতেও ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে চামড়া। শুধুমাত্র নগরীর বিভিন্ন আবর্জনার স্ত‚প থেকেই ২০ ট্রাক চামড়া তুলে নিয়ে ডাম্পিং স্পটে পুঁতেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক দশকে চামড়ার দামের এমন বিপর্যয় দেখা যায়নি। সিলেট শহরে চামড়া প্রতি দুই থেকে আড়াইশো টাকা মূল্য পাওয়া গেলেও গোলাপগঞ্জে গরুর চামড়ার দাম নেমে আসে ৮০/৯০ টাকায়; আর ছাগলের চামড়া কেউ দরদামই করেনি। এ অঞ্চলে মূলত মাদ্রাসা ছাত্ররা চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করে, আর এ থেকেই আসে মাদ্রাসার ব্যয়ের একটা সিংহভাগ। যা দিয়ে বছরব্যাপী আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন এতিম ও গরিব ছাত্ররা। এবারের কুরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে স্বভাবতই ক্ষুদ্ধ ও আশাহত তারা।

নগরীর দারুস সালাম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের মাদ্রাসায় তিন শতাধিক এতিম ছাত্র আবাসিক শিক্ষা নিয়ে থাকে। এই এতিম ছাত্রদের সাহায্যার্থে দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি হেঁটে চামড়া সংগ্রহ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তা বিক্রি করতে না পেরে রাতেই সেই চামড়া নগরীর আম্বরখানায় রাস্তার পাশে ফেলে যান তারা।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ বলেন, ওই মাদ্রাসার আয়ের একটি বড় অংশ আসে কুরবানির ঈদে সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি থেকে। কিন্তু চামড়ার দাম এত কমেছে যে তা কোনোভাবেই বিক্রি করা যাচ্ছিল না। তাই নীরব প্রতিবাদ হিসেবে ৮২৭ পিস চামড়া রাস্তায় ফেলে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

একই রকমভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আরো অনেকে। মঙ্গলবার সকালে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চামড়ার স্ত‚প দেখা গেছে।

পরে এসব চামড়া সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্পটে পুঁতে ফেলে সিসিকের বর্জ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এ ব্যাপারে সিসিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান বলেন, নগরী থেকে প্রায় ২০ ট্রাক চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে। সকালে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এসব চামড়া রাখা ছিল। তবে কেন এবার এত চামড়া অবিক্রিত রয়ে গেল, তা বোধগম্য নয়।

শুধু সিলেট নগরী কিংবা মাদ্রাসাগুলোই নয়, সিলেট জেলার বেশির ভাগ এলাকাতেই চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো উপায় না দেখে অবিক্রিত চামড়াগুলো পুঁতে ফেলে মানুষ। কেউ বা ভাসিয়ে দিয়েছেন নদীতে। সিলেটের বালাগঞ্জে চামড়া কেনার ক্রেতা না পেয়ে কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা।

বালাগঞ্জের ফিরোজাবাগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল মালিক ভোরের কাগজকে জানান, ঈদের দিন সোমবার দুপুর থেকে পশুর চামড়াগুলো মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাখা হয়। কেউই এসব চামড়া কিনতে আসেনি। চামড়ার দুর্গন্ধে বাসাবাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না মানুষ। এজন্য এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি আমরা।

চামড়া পুঁতে ফেলার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই প্রায় চার শতাধিক চামড়া কুশিয়ারা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, জানি না কেন গরিব ও এতিমদের হক নষ্ট করে চামড়ার মূল্য কমানোর সিন্ডিকেট করা হলো। যারা এমন কাজ করেছে আল্লাহ অবশ্যই তাদের বিচার করবেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj