রোগীদের সঙ্গে ঈদ করলেন চিকিৎসক ও নার্সরা

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

সেবিকা দেবনাথ : চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়াসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে এবারের ঈদ উদযাপন ছিল ভিন্ন রকম। অন্যবার ছুটি নিয়ে পরিবার পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেও এবার তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা বিরামহীনভাবে করেছেন ডেঙ্গু শনাক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা। নার্সরা ব্যস্ত ছিলেন স্যালাইন-সিরিঞ্জ নিয়ে। তবে তারা সবাই রোগীদের সেবা দিয়েছেন হাসিমুখে। রোগীদের সেবার মধ্যেই তারা উপভোগ করছেন ঈদের আনন্দ। ছুটির দিনেও এমন সেবা পেয়ে খুশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে একই চিত্র দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সব ডাক্তারের ঈদুল আজহার ছুটি বাতিল করে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু চিকিৎসা সেবা সেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সাদিয়া সুলতানা বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে আমরা পাশে দাঁড়াব এটাই স্বাভাবিক। দেশের নাগরিক হিসেবে এটিই আমার দায়িত্ব। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এইচ. এম. নাজমুল আহসান বলেন, চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের সেবা দেয়াই আমাদের কাজ। এটা ঠিক এ বছর ঈদের ছুটি পাইনি। কিন্তু একজন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার মধ্যে যে আনন্দ, সেই আনন্দের তুলনা হয় না। আমি শুধু আমার দায়িত্বটাই পালন করছি।

ঢাকা মেডিকেলে দায়িত্বরত নার্স আয়েশা আক্তার বলেন, প্রতি বছর কুরবানির ঈদে স্বামী সন্তান নিয়ে বাড়ি যাই। এ বছর তা হয়নি। আমাদের সেবা পেয়ে রোগীরা যখন হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যায় এই আনন্দের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না।

রাজধানীর হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালের নার্স রাখী বলেন, এ বছর সরকারিভাবে সবার ছুটিই বাতিল করা হয়েছে। কোনো রোগী যাতে সেবা বঞ্চিত না হয় সেই নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়েছে। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।

ঈদের দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া। তিনি রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্সদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

ঈদের দিন হাসপাতালে রাউন্ড দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনও। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সীমিত সম্পদ ও জনবল দিয়েই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি।

ঢাকা মেডিকেলের ইনডোর এবং ক্যাজুয়ালটি সারা বছরই খোলা থাকে। হাসপাতালে সব বিভাগ খোলা রয়েছে। চিকিৎসক নার্সরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, সবাই যখন ঈদের আনন্দ করছেন, সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসক, নার্সরা তখন হাসিমুখে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি রোগীরাও হাসপাতালেই ঈদ উদযাপন করেছেন। মুগদা জেনারেল হাসপাতালেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগগুলো খোলা ছিল। জরুরি বিভাগের মাধ্যমে নতুন রোগীও ভর্তি হয়েছেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj