সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাবি ক্যাম্পাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। আর সেটি যদি হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সেরা বিদ্যাপীঠ তাহলে তো কথা নেই। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র পদ্মার কোল ঘেঁষে ঢাকা টু রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মতিহারের সবুজ চত্বরে ১৯৫৩ সালে ৬ জুলাই ৭৫৩ একর জমি জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ক্যাম্পাসের।মতিহারের সবুজ চত্বরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ঠিক উত্তর পাশে দৃষ্টিতে মিলবে মূল ফটকে সোনালি অক্ষরে লেখা ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’। মূল ফটক পেরিয়ে সামনে পা ফেললেই দুই লেনসমৃদ্ধ রাস্তার মাঝে সরাসরি সবুজ বৃক্ষে আচ্ছন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আকর্ষণে বাড়িয়ে দিয়েছে। হাতের ঠিক বামপাশে দৃষ্টিগোচর হবে নিতুন কুণ্ডুর ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে আছে বীরত্বগাথা নিয়ে। যা মহান মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙ্গালিদের সাহসিকতার পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছে বহুগুণে। ঠিক একটু পেছনে চোখে পড়বে সিনেট ভবন। সামনেই জ্জোহা চত্বর যেখানে সমাহিত ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনরত অবস্থায় নিহত দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুজ্জোহা। জ্জোহা চত্বরের সম্মুখপানেই প্রশাসনিক ভবন, রাতে লাল নীল আলো এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। জ্জোহা চত্বরের ঠিক পশ্চিম পাশে সবারই আর্কষণীয় স্থান প্যারিস রোড। মূল ফটকের পিচঢালা রাস্তায় দুপাশে মস্ত বড় বড় গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের মাত্রাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, এপথে হাঁটলে গর্বিত মনে হয়। জ্জোহা চত্বরের পাশে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত টাওয়ার সবার নজর কাড়ে।

ঠিক পূর্বদিকে একটু হাঁটলে দক্ষিণ পাশে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও উত্তর পাশে শহীদ মিনার সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমিতে পরিণত করেছে, করছে আমায় মুগ্ধ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ৩৫-৩৬ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে দুটি দ্বিতল বাসসহ অনেকগুলো নীল-সাদা রংয়ের বাস, যেটি দেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য রয়েছে সুবিশাল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার জন্য রয়েছে আবাসিক হল। খেলাধুলার জন্য রয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণ নিজস্ব সুবিশাল স্টেডিয়াম, যা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এ ছাড়াও, ব্যায়ামের জন্য রয়েছে জিমনেশিয়াম ও সাঁতারের জন্য সুইমিংপুল। চিকিৎসা জন্য রয়েছে আলাদা মেডিকেল সেন্টার এবং রোগী বহন করার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর আবাসিক হলগুলোর কথা বলা হলে, এক একটি হল, এক একটি সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। এদিকে হলগুলোর ভেতরে সবুজঘেরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ও ফুলের বাগান আমায় মুগ্ধনয়ন চেয়ে থাকতে আহ্বান করে। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, বিদেশী শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে আলাদা ডরমিটরি। জ্জোহা হলের সামনেই দেখা মিলবে শহীদ শামসুজ্জোহার স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত স্মৃতিফলক। তার ঠিক পূর্বদিকে রাস্তা দুপাশে ধানক্ষেত ও পুকুরের পাশের মেঠোপথ ধরে একটু হাঁটলে মনে পড়ে যাবে গ্রামের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা, এর মাধ্যমে গ্রামের সৌন্দর্যকে অনুভব করা যায়। রাস্তা ঠিক বামপাশে একটি বধ্যভূমি রয়েছে যার সৌন্দর্য অসাধারণ।

তাছাড়া মূল ক্যাম্পাসের বাইরে নাড়িকেল বাড়িয়া নামে আলাদা একটি স্থান আছে, যেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বলা হয়, সেখানের পরিবেশও অনেক সুন্দর। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অদূরে রয়েছে চারুকলা অনুষদ। সেখানে পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ ইত্যাদিকে ঘিরে সারাবছর পূর্ণ থাকে আনন্দ আড্ডায়। যা মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে বাংলার পুরনো ঐতিহ্য রক্ষায় গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এটি দর্শনার্থীদের আরেকটি কৌতূহলের জায়গা। তাছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কোল ঘেঁষে আড্ডা ও খাবারের স্পট কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

তো আছেই।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj