যেভাবে মাস্টার্সের থিসিস পেপার লিখবেন

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

আপনার যখন থিসিস সম্পর্কে ভালো ধারণা হবে এবং এ সংক্রান্ত সব তথ্য যোগাড় করে ফেলবেন তখন আপনি থিসিস লেখা শুরু করতে পারেন। যে কোনো প্রজেক্ট শুরু করার আগে একটা স্ট্রাকচার করে নেয়া ভালো।

অ্যাবস্ট্রাক্ট

অ্যাবস্ট্রাক্ট থিসিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সাধারণত একজন পাঠক আপনার থিসিস পেপার পড়বে কিনা তা নির্ভর করে আপনার অ্যাবস্ট্রাক্টের উপর। তাই আপনি যদি চান মানুষ আপনার গবেষণাটি সম্পর্কে জানুক, তাহলে এ অংশটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিন। সম্পূর্ণ থিসিসের মূল সারমর্ম তুলে ধরা হয় অ্যাবস্ট্রাক্টে। একজন পাঠক সবার আগে থিসিসের এই অংশে চোখ বোলাবে।

তাই এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে করে পাঠকের মনে আপনার প্রজেক্টটি নিয়ে কৌত‚হল জাগে।

ইন্ট্রোডাকশন

অ্যাবস্ট্রাক্টের পরে যে অংশটি আসে তা হলো ইন্ট্রোডাকশন, যা অ্যাবস্ট্রাক্টের তুলনায় একটু বড় হয়। ইন্ট্রোডাকশনে আপনার থিসিসের মূল বিষয়, উদ্দেশ্য, কেন এ গবেষণা করা প্রয়োজন, এই গবেষণা কীভাবে কাজে লাগবে, টপিকের কতটা অংশ আপনার পক্ষে কাভার করা সম্ভব হয়েছে, কী ধরনের কাজ এখন পর্যন্ত করা হয়েছে, কোন সমস্যার সমাধান এখনও করা সম্ভব হয়নি, কোন কার্যপদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি গবেষণা করেছেন।

কোন সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ইন্ট্রোডাকশন উল্লেখ করতে হবে।

লিটারেচার রিভিউ

লিটারেচার রিভিউ লেখা সহজ কাজ নয়, তাই সময় নিয়ে মনোযোগ সহকারে কাজটি করতে হবে। মূলত এই অংশে আপনি যে টপিক নিয়ে কাজ করছেন তা নিয়ে আগে যদি রিসার্চ করা হয় তার বিস্তারিত বর্ণনা।

সেসব রিসার্চে কী ধরনের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং কোন কোন সমস্যার সমাধান করা এখনও সম্ভব হয়নি।

আপনি কোন সমস্যাটি নিয়ে কাজ করবেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে হবে। তবে আপনি আপনার থিসিসে যেসব পূর্ববর্তী রিসার্চের কথা উল্লেখ করবেন।

মেথড

গবেষণা করার বেশ কয়েকটি মেথড বা পদ্ধতি রয়েছে। আপনি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনার গবেষণার সমস্যাগুলো সমাধান করেছেন এই অংশে তার বর্ণনা দিতে হবে।

প্রাইমারি অথবা সেকেন্ডারি সোর্স নাকি দুটি সোর্সের সমন্বয়ে গবেষণা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন তা উল্লেখ করতে হবে। কোয়ালিটিভ, কোয়ান্টিটিভ পদ্ধতি নাকি অন্য ব্যবহার করেছেন, একটি নাকি একের অধিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং কেন গবেষণার জন্য এই পদ্ধতি বেছে নিলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।

রেজাল্ট

এই অংশে মূলত আপনি আপনার গবেষণা থেকে কী কী উত্তর খুঁজে পেলেন তা নিয়ে বিশদ বর্ণনা দিতে হবে। আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন আপনার গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলো গ্রাফ আকারে উপস্থাপন করতে।

এতে করে সহজেই ফলাফল বুঝতে পারবেন।

ডিসকাশন

এই অংশে মূলত গবেষণা সম্পর্কে আপনার মতামত উল্লেখ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে আমরা কী সিদ্ধাতে পৌঁছাতে পারি, গবেষণায় কী ধরনের সীমাবদ্ধতা ছিল, সীমাবদ্ধতার কারণগুলো কী ছিল।

এই টপিক নিয়ে আর কী ধরনের কাজ করা যেতে পারে, নতুন কী কী পয়েন্ট যুক্ত করা যেতে পারে, কোন কার্যপদ্ধতি অবলম্বন করে গবেষণা করলে অধিক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে নিজস্ব মতামত দিতে পারেন।

কনক্লুশন

এই অংশে মূলত উল্লেখ করবেন, গবেষণার কাজের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো কী ছিল এবং আপনি আপনার রিসার্চে কতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন আর সেসঙ্গে আপনার টপিকটি কেন এবং কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা আবার সংক্ষেপে উল্লেখ করে লেখা শেষ করতে পারেন। সবশেষে থাকবে রেফারেন্স সেকশন, যে সব সূত্র থেকে গবেষণার জন্য থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বই, রিসার্চ পেপার, রিপোর্ট, জার্নাল, ওয়েবসাইট ক্রমানুসারে বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj