বাজেয়াপ্ত শিগগিরই : খুনিদের সম্পত্তি শনাক্তকরণ চলছে

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯

এস এম মিজান : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী খুনিদের সম্পত্তি শনাক্তরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়। শনাক্তকরণের কাজ শেষ হলে খুব শিগগিরই এসব ঘৃণ্য খুনির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। ইতোমধ্যে দুই খুনি খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে আমাদের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। বর্তমানে খুনিদের সম্পত্তি শনাক্তকরণের কাজ চলছে। শনাক্তকরণ কাজ শেষ হলে খুব শিগগিরই তাদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। ইতোমধ্যে দুই জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাকিদের সম্পত্তিও পর্যায়ক্রমে বাজেয়াপ্ত হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পরিণতিতে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনাসদস?্য। তারপর বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে। মামলা দায়ের ও বিচার শুরু হলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর আপিল বিভাগে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। মামলায় ১২ ঘাতককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ ও একেএম মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। বাকিদের মধ্যে পলাতক আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান। আর নূর চৌধুরী, আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন এখনো পলাতক। তবে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের ছবিসংবলিত তথ্য পাঠানো হয়েছে। যাতে খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী ও দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়।

এদিকে জাতীয় সংসদে সম্পত্তি জব্দের আইন পাসের আগেই পলাতক আসামিদের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশিদ ও তার বাবা আব্দুল করিমের মালিকানাধীন ১৭ একর সম্পত্তি দুই দফায় বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রথম দফায় ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে তার ১০ দশমিক ৮২ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালের ১৪ জুন আরো ৬ দশমিক ১২ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রশিদ ও তার পরিবারের প্রায় ১৭ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার।

এ ছাড়া ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরীর ১ দশমিক ১৫ একর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এসব ভূমি বাজেয়াপ্ত করে খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ওপর লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj