পৃথকীকরণের অষ্টম দিন পার : ঝুঁকি সত্ত্বেও রোকেয়া-রাবেয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশু রাবেয়া ও রোকেয়ার অপারেশন সম্প্রতি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল তাদের পৃথকীকরণের ৮ম দিন পার হয়েছে। অপারেশনের পর সিএমএইচে কিছু ঝুঁকি সত্ত্বেও স্থিতিশীল রয়েছে তারা। এ ধরনের অপারেশনের পরবর্তী ঝুঁকি এবং জটিলতা অত্যন্ত বেশি থাকে বলে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। আইএসপিআর।

ঢাকা সিএমএইচের কমান্ড্যান্ট কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. হাবিব ই মিল্লাত, সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান, সিএমএইচ ঢাকার কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী, শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন, একশন ফর ডিফেন্সলেস পিপলের ডা. গ্রেগ পাটাকি (প্লাস্টিক সার্জন), ডা. এনড্রুস চকে (নিউরো সার্জন), ডা. মার্সেল (পেডিয়াট্রিকস ইনটেন্সিভিস্ট) এবং জোড়া শিশু রাবেয়া ও রোকেয়ার বাবা-মা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই শল্য চিকিৎসাটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৪ জানুয়ারি হাঙ্গেরিতে ৪৮টি ছোট-বড় সার্জারি সম্পন্ন হয়। এরপর ২২ জুলাই ‘যমজ মস্তিষ্ক’ আলাদাকরণের কাজটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হাঙ্গেরি থেকে তাদের ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়। ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই জন্ম নেয়া শিশু দুটির বিষয়ে সেনাপ্রধান সব ধরনের সহযোগিতার জন্য ডিজিএমএসকে নির্দেশনা দেন। তাদের পৃথকীকরণের জটিল অপারেশনটি গত ১ আগস্ট শুরু হয়ে ৩৩ ঘণ্টা চলে এবং ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ হয়।

হাঙ্গেরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিএমএইচের নিউরো অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের প্রায় শতাধিক সার্জন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট জটিল অপারেশনে অংশ নেন। বর্তমানে তারা সিএমএইচে পোস্ট অ্যানেসথেটিক কেয়ার ইউনিট বা পিএসি ইউতে অবস্থান করছে। গতকাল তাদের পৃথকীকরণের ৮ম দিন অতিবাহিত হয়। এ ধরনের অপারেশন অত্যন্ত জটিল, সাফল্যের হারও খুব বেশি নয়। অপারেশনের পর এখানে তারা কিছু ঝুঁকি সত্ত্বেও স্থিতিশীল রয়েছে। এ ধরনের অপারেশনের পরবর্তী ঝুঁকি এবং জটিলতা অত্যন্ত বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, রাবেয়া-রোকেয়ার আরো একটি অপারেশন (ক্রেনিও প্লাস্টি) ২ থেকে ৩ মাস পর করা হবে।

এ ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্র্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই পাবনার চাটমোহরে রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশু রাবেয়া ও রোকেয়া।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj