মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি লাভ : কাঁদলেন বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালা

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

হাফিজুল ইসলাম স্বপন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) থেকে : ৪৮ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালা দেবী। তাকে নিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের। খোঁজখবর নিতে থাকেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। বহু যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভায় বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালা দেবীসহ ৪৬ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

গত সোমবার ভোরের কাগজে প্রকাশিত ‘মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আরো ৪৬ জন বীরাঙ্গনা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালা দেবীর নামও রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাদের স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেয়ে খুশিতে কেঁদে উঠলেন বীরাঙ্গনা জয়ন্তী।

গত মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়া জয়ন্তী বালা দেবীর বাড়িতে গেলে স্বীকৃতির খবরে খুশিতে হাউমাউ করে কান্না করতে থাকেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জয়ন্তী বালা বলেন, আমি সব হারিয়ে আজ যা পেয়েছি তাতেই আমি মহাখুশি, মৃত্যুর পর স্বামী-ভাইকে বলতে পারব তোমাদের কে হারিয়ে তোমাদের দেয়া সম্মানটুকু নিয়ে পরপারে আসতে পারছি।

জয়ন্তী বালা দেবীর পার্শ¦বর্তী ভালুকা উপজেলার গোয়ারী গ্রামের উনেস চন্দ্র দেবনাথের ছেলে নিতাই চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে ১৯৬৬ সালে বিয়ে হয়।

বিয়ের ৪ বছরের মাথায় ১৯৭১ সালের গোয়ালিয়াবাজুর এলাকায় যুদ্ধে তার স্বামী নিতাই চন্দ্র শহীদ হন। পরে জয়ন্তী বালা দেবীকে আছিম রাজাকার ক্যাম্পে দুমাস আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ জায়া জয়ন্তী বালাকে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় তাকে দেয়া হয়েছিল ২ হাজার টাকাও। ওই চিঠিটা একমাত্র সম্বল করে আঁকড়ে ধরে ছিলেন ৪৮ বছর। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ বি সিদ্দিক জানান, জয়ন্তী বালা দেবী একজন বীরাঙ্গনা। যুদ্ধে তার স্বামীও শহীদ হয়েছেন। নিজের ভাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের বেয়নেটের আঘাতে নিহত হয়েছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লীরা তরফদার জানান, জয়ন্তী বালা দেবীর বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পত্রিকায় দেখেছেন। বলেন, হয়তো দুয়েক দিনের মধ্যে চিঠি আমরা পেয়ে যাব।

উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, আজ আমি সবচেয়ে খুশি হয়েছি।

কারণ অজপাড়াগাঁয়ে পড়ে থাকা এই বীরাঙ্গনাকে প্রথমে আমিই খুঁজে বের করি এবং মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করি। আজ বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালা দেবী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্কীকৃতি পেয়েছেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj