স্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে : তালায় গড়ে ওঠছে অবৈধ ইটভাটা

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

নজরুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা) থেকে : তালায় বাহারি প্রচারণায় জনবহুল এলাকার ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে বিসমিল্লাহ অটো ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। যার চার পাশে রয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ঐতিহ্যবাহী জেঠুয়া বাজার, এতিমখানা ও প্রবাহমান নদী।

ইতোমধ্যে ভাটার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। তারা তদন্ত করে ওই এলাকায় ভাটার কার্যক্রম বন্ধে অনুমোদন না দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের মোবারক হোসেন ও আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে হাফেজ জহুরুল ইসলাম একই এলাকার কামরুল ইসলাম, মো. মোতালেব ও তার লোকদের কাছ থেকে ১১নং জালালপুর ইউনিয়নের জেঠুয়া মৌজার প্রায় ৪ একর সম্পত্তি ইজারা নিয়ে ২৫ জুন উদ্বোধনের মাধ্যমে ইটভাটা স্থাপনের কাজ শুরু করে। যার এক পাশে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জেঠুয়া হাটবাজার, জনবহুল মালোপাড়া, ঘোষপাড়া, অন্য পাশে জালালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জেঠুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এতিমখানা ও ঐতিহ্যের ধারক কপোতাক্ষ নদ।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমত মালিকপক্ষ অটো ইটাভাটার নামে প্রচার করলেও মূলত তারা সেখানে হাওয়া ভাটা তৈরির কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। জনবহুল ও বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা, ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইটভাটা স্থাপিত হলে এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। জানা যায়, ভাটার জমি দাতা ও মালিকপক্ষ পরস্পর যোগসাজশে বসতভিটা থেকে শুরু করে ফসলি জমির দাগ-খতিয়ান সম্পৃক্ত করে ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করলেও মূলত তারা বিআরএস খাস খতিয়ানের জমিতেই ভাটা স্থাপন করছেন।

প্রভাবশালীরা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে তারা সেখানে ইটভাটার লাইসেন্স নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আইনের ৮ এর (১) ধারায় আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, ডিগ্রেডেড এয়ার শেড। একই ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী এই আইন কার্যকর হওয়ার পর নিষিদ্ধ এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো আইনের অধীন কোনোরূপ অনুমতি বা ছাড়পত্র বা লাইসেন্স, যে নামেই অভিহিত হোক প্রদান করিতে পারিবে না। আইনের ৩নং ধারার ক) উপধারায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা হতে ন্যূনতম ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিশেষ কোনো স্থাপনা রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেসহ নানা শর্তানুযায়ী ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। তবে সবকিছু জানান পরও কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় ভাটা স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

সর্বশেষ তাদের কার্যক্রমে এলাকাবাসীর মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। এখনো পর্যন্ত এ নিয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। এলাকাবাসী ক্ষতিকর দিকগুলো লিখিতভাবে জানালে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj