মন্ত্রণালয়ের জবাবের অপেক্ষা : চিলমারী বন্দরে ১৮ দিন ধরে আটকা পাথরবোঝাই ট্রলার

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌবন্দরে দুটি পাথরবোঝাই ট্রলার খালাসের অপেক্ষায় ১৮ দিন ধরে আটকে আছে। ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশের আফসা এন্টারপ্রাইজ ও মুকুল এন্টারপ্রাইজ নামের ট্রলার দুটি বর্তমানে বন্দরের পূর্বদিকে অবস্থান করছে। বাংলাদেশি দুই ব্যবসায়ী ভারতের আসাম থেকে এসব পাথর আমদানি করেছেন।

ওই দুই ব্যবসায়ী নীতিমালা মেনে কাজটি করলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ভুটানের পণ্য শুধু বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা দিয়ে আমদানি করার অনুমতি আছে। কিন্তু তারা ব্যবসায়ী কাস্টমসের কোনো ক্লিয়ারেন্স না নিয়েই নৌপথে পাথর আমদানি করেছেন। এসব জটিলতায় ট্রলার দুটি ১৮ দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদে আটকা আছে।

পাথরবোঝাই ট্রলার দুটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখেছে রংপুর কাস্টম বিভাগ। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে রংপুর কাস্টম অফিস জানায়। এদিকে ট্রলার দুটি টানা ১৮ দিন ধরে বন্দরে আটকে থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি ওই দুই পাথর ব্যবসায়ী। প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। পাথর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন খান অভিযোগ করেন, গত ২৫ তারিখ থেকে ট্রলার দুটিকে আটকে রেখে নানা টালবাহানা করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। সম্ভাবনার একটি নতুন দিগন্তকে গলা টিপে হত্যা করতে চাইছেন তারা।

তিনি আরো বলেন, ’৭১-এর পর আসাম থেকে জলপথে পাথর আমদানি এই প্রথম। এর আগে গত ১৮ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপ ভুটান থেকে এ পথেই পাথর আমদানি করেছে। এটাকে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত বলে অভিহিত করেন ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশের হাইকমিশনাররা। কিন্তু অজানা কারণে কাস্টমস গত ১৮ দিন ধরে পাথরবোঝাই (এমবি ঈগল ও এমবি বদিউজ্জামান-২) ট্রলার দুটিকে আটকে রেখেছে। ট্রলার দুটি আটকে থাকায় আমাদের প্রতিদিন বাড়তি ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে। তবে কাস্টমের রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তা আকতার হোসাইন ট্রলার দুটিকে আটকে রাখা হয়েছে তা মানতে নারাজ। তার ভাষায়, ট্রলার দুটিকে সাময়িকভাবে ‘চলৎশক্তিহীন’ করে রাখা হয়েছে। রাজস্ব ও আমদানির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও কেন ট্রলার দুটিকে আটকে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে রংপুর কাস্টমসের (সেক্রেটারি ২য়) কর্মকর্তা আকতার হোসাইন জানান, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে নৌরুটে আমদানির বিষয়ে উভয় দেশের চুক্তি হলেও বাস্তবিক পক্ষে আমরা এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ নই।

এটি তদারকি করতে চিলমারী পয়েন্টে আমাদের লোকবল এখনো নিয়োগ দেয়া হয়নি। এটি না জেনেই শেরপুরের দুই ব্যবসায়ী ভারত থেকে পাথর আমদানি করেছেন। ফলে ট্রলার দুটিকে সাময়িকভাবে ‘চলৎশক্তিহীন’ করে রাখা হয়েছে মাত্র। তারা আবেদন করেছেন। কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের নৌপথে পাথর আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে এটা হয়েছে। আপাতত বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা রুট ছাড়া অন্য কোনো রুটে ভুটানের পাথর আমদানি করার কোনো অনুমতি নেই।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj