রেললাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ : নড়াইলে টাকা না পেয়ে উৎকণ্ঠায় জমি মালিকরা

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

নড়াইল প্রতিনিধি : পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-যশোর রেললাইনের নড়াইল অংশের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল, বাণিজ্যিক শহর নওয়াপাড়া ও শিল্পাঞ্চল খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগে, এমনকি ভারতের পশ্চিমবাংলায় যাতায়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই রেললাইন। এটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের একটি উপ-রুট। তবে গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নড়াইল অংশের কাজ শুরু হলেও অধিগ্রহণ হওয়া জমির মালিকরা এখনো টাকা পাননি। টাকা পাবেন কিনা এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন জমি মালিকরা।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে যশোর এই ১৭২ কিলোমিটারজুড়ে চলছে রেললাইন নির্মাণ। কাজ পেয়েছেন চিনের ‘চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লি.’ এর ঠিকাদার। কাজ শেষের মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এতে মোট রেলস্টেশন থাকবে ২০টি। এর ১৪টি নতুন নির্মাণ করতে হবে। ব্রডগেজ এ রেললাইনে ৬৬টি বড় সেতু ও ২৪৪টি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। লেভেল ক্রসিং গেট থাকবে ৩০টি। নয়টি জেলার ওপর দিয়ে এটি যাবে। ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে ভাঙ্গা, নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, কাশিয়ানী, লোহাগড়া, নড়াইল ও জামদিয়া হয়ে যশোরের রূপদিয়ায় রেললাইনে মিশবে। এর মধ্যে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী ও যশোরের পদ্মবিলায় রেলওয়ে জংশন হবে। নড়াইল জেলার লোহাগড়া পৌর এলাকার নারানদিয়ায় ও নড়াইল পৌর এলাকার দুর্গাপুরে রেলস্টেশন হবে। ঢাকা থেকে লোহাগড়ার রেলস্টেশনের দূরত্ব ১২৩ ও নড়াইল রেলস্টেশনের দূরত্ব ১৩৮ কিলোমিটার। নড়াইল জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নড়াইল জেলায় রেললাইনের মধ্যে পড়েছে ২৮টি মৌজা। এতে ৪০৬ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণ হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা সদরের নারানদিয়া ও মোচড়া এলাকায় ৪ কিলোমিটারজুড়ে রেললাইন নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সেখানে ফসলি জমিতে বালু ভরাট করে রোলার দিয়ে সমান করা হচ্ছে। ভাটিয়াপাড়ায় মধুমতিতে এবং লোহাগড়ার নবগঙ্গায় রেলসেতুর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এখানে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের পদচারণায় অন্যরকম আমুদে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের গ্রামের মানুষ এ কর্মযজ্ঞ দেখতে ভিড় করছেন। এ ছাড়া নড়াইল সদর উপজেলায় যৎসামান্য কাজ শুরু হয়েছে।

পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপ-পরিচালক (রিসেটেলমেন্ট) মহাব্বতজান চৌধুরী জানান, পদ্মসেতু যে দিন থেকে চালু হবে, সে দিন থেকেই যেন ঢাকা-যশোর ট্রেন চালানো যায় সেভাবে কাজ চলছে।

এদিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ফসলি জমিতে রেলস্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু অধিগ্রহণ হওয়া জমির মালিকরা এখনো টাকা পাননি। টাকা পাবেন কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। স্থানীয়ভাবে গুজব রটেছে জমির মালিকরা টাকা পাবেন না। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জমি মালিকরা। অধিগ্রহণ ও টাকা বিতরণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।

এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশিদ বলেন, টাকা বরাদ্দ হয়ে আছে। দুশ্চিন্তার কোনো বিষয় নেই। প্রকৃত ভূমি মালিকরা যাতে সঠিকভাবে টাকা পান, সে জন্য এতে অনেক প্রক্রিয়া আছে। বর্তমানে জমির মালিকদের ৭ ধারার শুনানি চলছে। এসব কাজ শেষে টাকা দেয়া শুরু হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj