শেরপুরে আমনের বীজতলা সংকট

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

খোরশেদ আলম, শেরপুর থেকে : শেরপুরে বীজতলা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। উঁচু জমিগুলোতে চলছে এখন জমিচাষ, বীজতলা উত্তোলন ও রোপণের ধুম। চলতি আমন মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শেরপুর জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলায় ৯৬ হাজার ৯৯২ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এ হিসাব অনুযায়ী কৃষকরা বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু অতিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে জেলার ৫২টি ইউনিয়নে মধ্যে ৩০টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের শত শত একর জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁনসহ অনেকেই জানান, তাদের প্রায় ৩০ একর জমির বীজতলা পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে তারা এখন দিশেহারা। বীজতলা সংকট নিয়ে জেলার ৩০টি ইউনিয়নের শত শত কৃষক পড়েছেন বিপাকে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে যে পরিমাণ বীজতলার ক্ষতি দেখানো হয়েছে বেসরকারি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি। বীজতলার সংকট সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জেলা খামারবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এফ এম মোবারক হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে বন্যার পানিতে ৭৭৫ হেক্টর জমির বীজতলার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় কমিউনিটি বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আপদকালীন বীজতলা ও কৃষকদের অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj