বিগত বছরগুলোর টাকা বকেয়া : চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় নওগাঁর ব্যবসায়ীরা

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

মো. আবু বকর সিদ্দিক, নওগাঁ থেকে : আসন্ন ঈদুল আজহায় কুরবানির পশুর চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের হাতে চামড়া কেনার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই। ট্যানারি মালিকদের কাছে বিগত বছরগুলোর টাকা এখনো বকেয়া পড়ে আছে। এ অবস্থায় অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসা শুরু করছেন। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।

একদিকে ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা নেই, অপরদিকে বাজারে চামড়ার দাম কম। এ অবস্থায় এ বছর চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, গত ৫ বছরে ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে।

নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড় থেকে দক্ষিণে দুবলহাটি রাজবাড়ী যাওয়ার রাস্তায় হাট-নওগাঁ মহলা। এক সময় ওই এলাকা ‘চামড়া পট্টি’ নামে পরিচিত ছিল। অনেক দূর পর্যন্ত বাতাসে চামড়ার গন্ধ ভেসে যেত, কিন্তু সময়ে বিবর্তনে সেই ‘চামড়া পট্টি’ এখন পরিবর্তন হয়েছে। নাম ‘চামড়া পট্টি’ হলেও সেখানে এখন মুদি, সাইকেল, সিরামিক, পাস্টিক সামগ্রীর দোকান গড়ে উঠেছে। কুরবানির ঈদ ছাড়া অন্য সময় ওই এলাকায় চামড়া খুব একটা দেখা যায় না। হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ‘চামড়া পট্টি’ নামটাই বিলীন হয়ে যাবে।

জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২০০ জন চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা কুরবানির সময় টাকা ধারদেনা করে চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন, কিন্তু দফায় দফায় সময় নিয়েও ট্যানারি মালিকরা বিগত বছর ও তার আগেরও পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি। তারা টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখান। ফলে এ বছর চামড়া কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কুরবানির ঈদের সময় যে চামড়া কিনতে হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চামড়া কেনার জন্য তাদের আগাম কিছু প্রস্তুতি থাকে। লবণ সংগ্রহ, দা ও ছুরি এবং শ্রমিকদের মজুরি দেয়া। ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়া কেনার জন্য তাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া হয় না। ঋণ দেয়া হয় যাদের কোটি কোটি টাকা আছে সেই ট্যানারি মালিকদের। ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনার পর বলেন নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা যে দামে ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করেন, পরবর্তী সময়ে ট্যানারি মালিকরা বলেন বিদেশে দাম কমে গেছে, এজন্য কম দাম নিতে হবে।

ট্যানারি মালিকদের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আলাউদ্দিন খান নামে একজন বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে চামড়া ব্যবসায় জড়িত। গত ৫ বছর ধরে এ ব্যবসায় দুর্দিন চলছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রচুর টাকা বকেয়া আছে। আগামীতে কুরবানির চামড়া কেনার প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত নিতে পারিনি। অনেকেই এখন চামড়া ব্যবসা ছেড়ে জীবন-জীবিকার জন্য ব্যবসা পরিবর্তন করেছে।

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মোমতাজ হোসেন বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে গত ৫ বছরে নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬ কোটি টাকা পাওনা আছে। আগের টাকা বকেয়া থাকায় এ বছর আমরা এখন পর্যন্ত চামড়া কেনার কোনো প্রস্তুতি নিতে পারিনি। ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার আগ্রহ কমে গেছে। এ বছর ২৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ বাজারে চামড়ার দাম কম। অথচ ভারতে চামড়ার দাম ভালো। এ কারণে চোরাই পথে এ দেশের কুরবানির চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, চামড়া ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে ‘ওয়েট বু ব’ চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে।

এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা। জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২০০ জন চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ শিল্পকে টিকিতে রাখতে হলে সরকারকে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে একটা নীতিমালা তৈরি করতে হবে। তা না হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেনের (পিপিএম) সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ভারতে চামড়া পাচারের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের পুলিশ বাহিনীর তদারকি অব্যাহত আছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj