ডেভেলপারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় বহুতল ভবন নির্মাণে দেওয়ান হোল্ডিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন জমির মালিকপক্ষ। এ নিয়ে ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেওয়ান হোল্ডিংস লিমিটেড একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি। এটি রিহ্যাব সদস্যভুক্ত কোনো কোম্পানি নয়। অন্যদিকে উত্তর বাড্ডার ছ-৬৮ নম্বর বাড়ির ১১ কাঠা জমির মালিক পৈত্রিক সূত্রে তিন ভাই- খন্দকার মাহবুব আলী, খন্দকার মনোয়ার আলী, খন্দকার মোসাদ্দেক আলী ও তাদের বোন জিনাত আরা বেগম। এ জমিতে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর ৫৬/১, পুরানা পল্টনের দেওয়ান হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মো. আবদুস সাত্তারের সঙ্গে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন তারা।

এরপর ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঢিমেতালে নির্মাণকাজ চলায় চুক্তি মোতাবেক সাড়ে তিন বছরে ভবন নির্মাণে ব্যর্থ হয় দেওয়ান হোল্ডিংস। পরে এক বছর ১০ মাস সময় বাড়িয়ে দেয় জমির মালিকপক্ষ। তারপরও নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের ১২ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। এ সময়েও ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি তারা।

মালিকপক্ষের অভিযোগ, বেশি মুনাফার লোভে দেওয়ান হোল্ডিংস রাজউকের নকশা থেকে ভবনের উচ্চতা কমিয়েছে। দশম তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও করা হয়েছে ৭ম তলা পর্যন্ত। নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় এরই মধ্যে ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তরা। কয়েকটি ফ্ল্যাটের দরজা বেঁকে গেছে, জানালা খুলে পড়ছে। কম উৎপদান ক্ষমতার সাব-স্টেশন ও নিন্মমানের লিফট ব্যবহারেরও অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ।

এ ছাড়া জমির মালিকপক্ষকে ১৮টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করার শর্ত থাকলেও দেয়া হয়েছে মাত্র ৬টি। বাকি ১২টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি। অন্যদিকে ডেভেলপার কোম্পানি তাদের প্রাপ্য ১৮ ফ্ল্যাটের ১৬টি এরই মধ্যে বিক্রি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী জমির মালিকপক্ষের ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বিলম্বজনিত কারণে ৪৩ লাখ টাকা ভাড়া দিতেও গড়িমসি করছে দেওয়ান হোল্ডিংস।

এ অবস্থায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সালিশি আইন-২০০১ এর অধীনে ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলা করেন জমির মালিক খন্দকার মাহবুব আলীসহ চারজন। শুনানি শেষে ১৩ মে ভবনের কোনো ফ্ল্যাট বা অংশ অন্যত্র কোনোভাবে যেন হস্তান্তর না করতে পারে এ জন্য উভয়পক্ষের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (স্থিতাবস্থা) জারি করেন আদালত। আগামী ২৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে।

এদিকে সালিশি আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জমির মালিকপক্ষকে নানা নানা হুমকি ধামকি দেন দেওয়ান সাত্তার। এ প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় জিডি করেন খন্দকার মনোয়ার আলী। জিডির পরও হুমকি অব্যাহত থাকায় জমির অপর অংশীদার খন্দকার মাহবুব আলীর ছেলে খন্দকার মাহফুজ আহমেদ বাদী হয়ে দেওয়ান সাত্তার, তার সাইট ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান (সবুজ) ও মো. রেজাউল করিমের (রেজা) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আর হুমকি দেয়া হবে না এমন মুচলেকা দিয়ে অব্যাহতি পান দেওয়ান সাত্তার ও অন্যরা।

খন্দকার মাহবুব আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ে ভবনের কাজ শেষ করতে পারেনি দেওয়ান হোল্ডিংস। আমরা চাই, তারা দ্রুত নির্মাণ শেষ করে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করুক। ভাড়া বাবদ আমাদের পাওনা ৪৩ লাখ টাকা দিতে হবে। আর ভবনের প্রয়োজনে গুণগতমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না করা প্রসঙ্গে দেওয়ান আবদুস সাত্তার বলেন, আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন, তাই কাজ করতে পারছি না। স্থিতাবস্থা গত ১৬ মে জারি হয়েছে, এর আগে গত ৫ বছরে কেন কাজ শেষ হয়নি এ প্রশ্নে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে স্বীকার করেছেন, নানাবিধ সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে ভবনের কাজ শেষ করা যায়নি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj