কুরবানি ঘিরে চাঙ্গা অর্থনীতি

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। উৎসবকে কেন্দ্র করে যে কোনো দেশের অর্থনীতিতেই চাঙ্গা ভাব দেখা যায়। কুরবানি ঈদের অর্থনীতিতে শুধু পশুকে ঘিরেই নয়। এই কেনাকাটায় ভোগ্যপণ্য, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, ভ্রমণ, পবিত্র ওমরা পালন, ফার্নিচার, গাড়ি ও আবাসন খাতসহ প্রতিটি সেক্টরে নগদ টাকার লেনদেন বৃদ্ধি পায়। যারা সময় পেলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন, তারাও ঈদের ছুটিকে কাজে লাগান।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বেড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এর বেশিরভাগই দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে তার প্রিয়জনের পাঠানো অর্থ। কিছু ব্যাংকের শাখা শুক্র ও শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছে। ঈদের কেনাকাটা, পশু কুরবানি ছাড়াও নানা খাতে প্রচুর অর্থের লেনদেন হয়। ফলে গোটা অর্থনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে। শুধু নগরী নয়, সারা দেশের হাটবাজারে কেনাকাটা করছেন সাধারণ মানুষ। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন সবাই। ঈদুল আজহার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে পশু কুরবানি।

ইতোমধ্যে দেশে মজুদ রয়েছে কুরবানির মূল আকর্ষণ ১ কোটি ১৮ লাখ পশু। সীমান্তে কড়াকড়ির মধ্যেও ভারত ও মিয়ানমার থেকে কুরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়াও চামড়া, মসলা, দা, বঁটি, পরিবহন, পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। বাড়ছে টাকার প্রবাহ। ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে রেমিট্যান্স (প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ)। ইতোমধ্যে বোনাস পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। শহর থেকে টাকা যাচ্ছে গ্রামে। সবকিছু মিলে দেশের অর্থনীতিতে কুরবানির আমেজ শুরু হয়েছে। তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বাজারে বাড়তি টাকার প্রবাহের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। তবে এ বছর ব্যতিক্রম চিত্র রয়েছে। দেশের ২০টিরও বেশি জেলায় বন্যার কারণে এবার উৎসবে কিছুটা ঘাটতির আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। দৈনন্দিন ব্যস্ততা ও যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের অনলাইন বাজারও। নিত্যনতুন পণ্যের সমাহার, বিভিন্ন ছাড় ও উপহারের কমতি নেই ভার্চুয়াল এ বাজারে। এ ঈদে জামা কাপড়ের ব্যবসা বেশি হয় না। তবে ভোগ্যপণ্যে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গেল জুলাই মাসে প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই পরিমাণ মাস হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেশি অর্থ দেশে পাঠানোয় এর পরিমাণ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। এর প্রভাব গোটা অর্থনীতিতে পড়বে। ঈদুল আজহার বিশেষ আরেকটি দিক হলো- এই ঈদকে কেন্দ্র করে খণ্ডকালীন কিছু কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পশুর হাট ইজারা, চাঁদিয়া, বাঁশ-খুঁটির ব্যবসা, পশুর খাবার, পশু কুরবানি ও কসাইয়ের কাজ, বিপণিবিতানগুলোয় বাড়তি জনবলের জন্য খণ্ডকালীন নিয়োগ ছাড়াও বিভিন্ন রকমের খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হয় ঈদকে কেন্দ্র করে। গোশতসহ ঈদের অন্যান্য রান্নাবান্না কাজে ব্যবহৃত মসলা বাবদ প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে এ সময়ে। তা ছাড়া লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খাতও চাঙ্গা থাকে। কুরবানির ঈদে চামড়া ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেও বড় লেনদেন হয়ে থাকে। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ দিয়ে থাকে। সারা বছরের অর্ধেকের বেশি চামড়া আসে ঈদের সময়ে। ফলে পশু চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে ঈদকে কেন্দ্র করেই।

ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ পবিত্র হজ পালন করে থাকেন। হজ পালন উপলক্ষে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুলসংখ্যক অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। ফলে কয়েক হাজার কোটি টাকা এ খাতে লেনদেন হয়েছে। ঈদের অর্থনীতিতে আরেকটি অনুষঙ্গ হলো পর্যটন খাত। এবারের ঈদুল আজহা পালিত হবে সোমবার। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস।

অনেকেই মাঝে একদিন ছুটি নিয়ে টানা ৯ দিন ছুটি কাটাবেন। ফলে ঈদের ছুটিতে এবার পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj