জালনোট শনাক্তে পশুর হাটে ব্যাংকিং সেবা

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : প্রতি বছর কুরবানির পশু কেনাবেচায় বাড়ে নগদ লেনদেন। এ সুযোগে হাটে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ জন্য রাজধানীর পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে ৫৭টি বুথের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে ৪০টির মতো বাণিজ্যিক ব্যাংক। পশুর হাটগুলোতে অস্থায়ী বুথ বসিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মীরা বিনামূল্যে নোট সঠিক কি না তা পরীক্ষা করে দিচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

রাজধানীর আফতাব নগর পশুর হাটে জালনোট শনাক্তে সেবা দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির দায়িত্বরত অফিসার মোস্তফা সবুজ বলেন, বেপারিরা পশু বিক্রির পর আমাদের কাছে আসছে। আমরা বিনামূল্যে তাদের টাকা যাচাই-বাছাই করে দিচ্ছি। এ ছাড়াও আসল নোট চেনার বিভিন্ন উপায় বলে দিচ্ছি। জালনোটের এ সেবা কার্যক্রম চলবে ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত বলে তিনি জানান। জালনোট পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের এ অফিসার জানান, এখন পর্যন্ত কোনো জালনোট পাইনি। আফতাব নগরে রূপালী ব্যাংক ছাড়াও ব্র্যাক ও এনআরবি ব্যাংককে সেবা দিতে দেখা গেছে। আফতাব নগরে হাটে জালনোট ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মী জানান, যেসব গরু ব্যবসায়ী আসছে তাদের সেবা দিচ্ছি। জালনোট যাচাইয়ের জন্য হাট কর্তৃপক্ষ সবসময় মাইকিং করছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর হাটে জালনোট প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে নোট যাচাইয়ের সেবা প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কুরবানির ঈদের চক্রের সদস্যরা কোনোভাবেই যাতে জালনোট ছাড়তে না পারে এ জন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, জালনোট শনাক্তকারী মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দ্বারা হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের পূর্বরাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ীদের বিনাখরচে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা দিতে হবে। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রায় ৪০টি ব্যাংক ৫৭টি বুথ স্থাপন করে সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ১৪ স্থানে কুরবানির পশু বেচাকেনা করছে। এসব হাটে মোট ৩৩টি বুথ স্থাপন করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে খিলগাঁও রেলগেট এলাকার খালি জায়গার হাটে থাকবে এবি ও ব্র্যাক ব্যাংকের বুথ। জিগাতলা-হাজারীবাগ এলাকায় থাকবে এক্সিম ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। লালবাগের রহমতগঞ্জ হাটে থাকবে ন্যাশনাল ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক। কামরাঙ্গীরচর বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন হাটে থাকবে ন্যাশনাল ও সাউথইস্ট ব্যাংক। পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকার হাটে থাকবে রূপালী ও ইসলামী ব্যাংক। কদমতলীর শ্যামপুর বালুর মাঠ সংলগ্ন হাটে জনতা ও পদ্মা ব্যাংক, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাজার এলাকায় ফার্স্ট সিকিউরিটি, পূবালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ৩২নং ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠ সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের খালি জায়গায় এনসিসি, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের বুথ থাকবে। গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গায় ডাচ-বাংলা, এনসিসি ও সাউথ বাংলা ব্যাংক, শনির আখড়া ও দনিয়া মাঠ সংলগ্ন হাটে মধুমতি, ইসলামী ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং ধূপখোলা এলাকায় থাকবে ডাচ-বাংলা ও এসআইবিএল। কাউয়ার টেক মাঠসংলগ্ন এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার হাটে ব্র্যাক, রূপালী ও এনআরবি ব্যাংক এবং আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গায় এনআরবি কমার্শিয়াল ও সোনালী ব্যাংক বুথ স্থাপন করবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি হাটে রয়েছে ২৪টি বুথ। এর মধ্যে গাবতলী পশুর হাটে থাকবে সোনালী, ইউনিয়ন, সীমান্ত ও পূবালী ব্যাংক। উত্তরা ১৫নং সেক্টরে থাকবে ইউসিবিএল, শাহ্জালাল ইসলামী ও ঢাকা ব্যাংক। ভাটারা পশুর হাটে থাকবে যমুনা ও জনতা ব্যাংক। এ ছাড়া ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠে ওয়ান ও উত্তরা ব্যাংক, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন পুলিশ লাইনে অগ্রণী ও মেঘনা ব্যাংক, মিরপুর ৬নং সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গায় সিটি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক, মিরপুর ডিওএইচএসে প্রাইম ও মিডল্যান্ড ব্যাংক, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ও প্রাইম ব্যাংক, কাওলা শিয়ালডাঙ্গা এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংক এবং ভাসানটেক এলাকায় থাকবে ইস্টার্ন ও উত্তরা ব্যাংকের বুথ।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj