উজ্জ¦ল কিশোরী

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

বৃত্তাকার ভাবে ঘুরে ফিরে আসা পুরোনো দেশীয় ফ্যাশনে নতুনত্ব আনতে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনাররা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। সে অর্থে এখনকার কিশোরীদের পোশাক-আশাক, চাল-চলনে বদলটা চোখে পড়ার মতোই।

সুমাইয়া আহমেদ

এক অথবা দুই বেণি, সালোয়ার-কামিজ বা সাধারণ কাটের ফ্রক। আগের প্রজন্মের বেশির ভাগ কিশোরীর সাজ-পোশাক এমনই ছিল। ১০-১২ বছর পর এখন ভিন্ন দৃশ্য। কিশোরীরা এখন অনেক সাবলীল। এখন দেশি ও পাশ্চাত্যের মিশেলে নানা ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় কাটছাঁটে সাজানো হয় কিশোরীদের ঈদ পোশাক। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের চলতি ধারাও তুলে ধরা হয়েছে কিশোরীদের পোশাকে। আধুনিক কাট, রঙিন নকশা আর আরামদায়ক কাপড় সব মিলিয়েই এবারে কিশোরীদের পোশাকে এসেছে বেশ ভিন্নতা।

বৃত্তাকার ভাবে ঘুরে ফিরে আসা পুরোনো দেশীয় ফ্যাশনে নতুনত্ব আনতে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনাররা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। সে অর্থে এখনকার কিশোরীদের পোশাক-আশাক, চাল-চলনে বদলটা চোখে পড়ার মতোই।

দেশীয় ফ্যাশন শিল্প এখনও উৎসব বা দিবস কেন্দ্রিক এখনও। তবে, অনলাইনে বিদেশী ফ্যাশন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে বদলাচ্ছে আমাদের ফ্যাশন বিষয়ক চিন্তা-ভাবনা। এই প্রভার কিশোরীদের ঈদ পোশাকেও।

ডিজাইনে নতুনত্ব আনতে কামিজ, টপ, কুর্তা, টিউনিক, ফ্রক প্রভৃতির গলা ও হাতায় আনা হয়েছে ভিন্নতা। পাশাপাশি গরম আর বৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে বেছে নেওয়া হয়েছে পোশাকের কাট, রং আর আরামদায়ক কাপড়। এবারও ঈদে প্রতিবারের মতো উজ্জ্বল রঙের সঙ্গে পাওয়া যাবে হালকা রঙের পোশাক।

কিশোরীদের এবারকার ঈদ পোশাক নিয়ে জানালেন রঙ বাংলাদেশের শীর্ষ নির্বাহী সৌমিক দাস। তিনি বলেন “পোশাকের কাটগুলো এ বছর নজর কাড়ছে বেশ। ভিন্ন ধরনের কাটগুলো বেশ নিচ্ছে কিশোরী ক্রেতারা। সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা- শার্ট, টিউনিক, ফ্রক বা স্কার্ট ইত্যাদি পোশাকের নিচের অংশটায় বেশ উঁচু-নিচু ঢেউয়ের মতো করে কাটা। নতুন ধারা অনুযায়ী কুর্তার সামনের নিচের দিকটা ছোট, পেছনের দিকটা বেশ লম্বা। একটু ঢিলেঢালা কাটই রাখা হচ্ছে। কারণ, এখন গরমকাল। টিউনিকগুলো করা হচ্ছে মূলত সোজা কাট দিয়ে। সিঙ্গেল কুর্তা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। নিচের অংশটা কিশোরীরা নিজের মতো করে মিলিয়ে নিচ্ছে। কুঁচির ব্যবহার হচ্ছে সামনের দিকে। গলায় বোট নেক, কলার প্রভৃতি থাকবে।”

বাজার ঘুরে দেখা গেল, কোনো একটি নির্দিষ্ট কাট বা নকশার প্রতি ঝোঁক নেই কিশোরীদের; বরং বিভিন্ন ডিজাইনের বর্ণিল পোশাকের প্রতিই বেশি আগ্রহ তাদের। ক্রপ টপ, ফ্লেয়ার টপ, কুর্তি, সালোয়ার, টিউনিক, সোজা কাটের ঢিলেঢালা টপ ইত্যাদি কাট এবার জনপ্রিয় ।

এবার লম্বা গাউনযুক্ত পোশাকের প্রতিও বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। অনেক বেশি ঘের দেওয়া পালাজ্জোও চলছে। ভিন্নতা আনতে কোল্ড শোল্ডার, অফ শোল্ডার, ফ্লুয়িড ¯িøভ, বেল বটম ¯িøভ ইত্যাদি হাতা যুক্ত হয়েছে পোশাকের সঙ্গে। ছাপা নকশা যেমন আছে, তেমনি আছে হাতের কাজও। জেন্টল পার্কের চেয়ারম্যান শাহাদৎ চৌধুরী বাবু জানালেন, ‘কিশোরীদের লিনেন ও কটন কাপড়েন পোশাকে ডিজিটাল প্রিন্টে নকশা করেছি এবার। টপসে থাকছে হালকা নকশা, যাতে গরমে পরে আরাম পাওয়া যায়। টপসের পাশাপাশি কেইপেও কিশোরীরা অনেক স্বচ্ছন্দ। পোশাকে জমকালো ভাব আনতে গলায়, হাতে ঝালরের ব্যবহার হয়েছে।’ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস উজ্জ্বল কমলা, লাল, খয়েরি, নীল প্রভৃতি রঙের স্কার্ট ও সামার জ্যাকেট নিয়ে এসেছে।

ফ্যাশন হাউসগুলো এখনকার কিশোরীদের ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পোশাক বানাচ্ছে। ইন্টারনেটের যুগে সব তথ্য তো ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। ফিউশনধর্মী স্টাইলের অনেকটাই যেন সেখান থেকে বেছে নেওয়া। ডিজাইনার সৌমিক সাহা বলেন, ‘কিশোরীরা এখন যেন বয়সের থেকেও বড় হয়ে গেছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এখন তাদের আর ফ্রেমে আটকানো যাচ্ছে না। তারা সবকিছুই এখন বহন করতে পারে।’

পালাজ্জো, চাপা প্যান্ট, সালোয়ারের নিচের অংশে প্রিন্ট বা হাতের কাজ দেখা যাচ্ছে এবার। অনেকে কামিজের সঙ্গে সালোয়ারের বদলে স্কার্ট নিচ্ছে। পোশাকে কারচুপি, সুতার কাজ, জারদৌসি এবার বেশ দেখা যাবে বলে জানালেন ডিজাইনার মায়া রহমান। তিনি জানান, নরম কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলো কিশোরীদের জন্য আরামদায়ক হবে। সিল্ক, জর্জেট, শিফন, সুতির পোশাকগুলো তারা ভালো বহন করতে পারবে।

একসময় কিশোরীদের পোশাকে কালো রংটা খুব একটা প্রশংসা পেত না। এখন রঙের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য পছন্দ করছে এই বয়সের মেয়েরা।

কালো, সাদা, হালকা যেকোনো রং পোশাকে বহন করছে তারা। তবে উজ্জ্বল রংগুলো তাদের বেশি মানায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হলুদ, নীল, সবুজ, কমলা, গোলাপি, কালো, লাল, বেগুনি সব রংই রাঙাচ্ছে তাদের পোশাকগুলো। অঞ্জন’স এর উদ্যোক্তা শাহীন আহম্মেদ মনে করেন, আমাদের দেশে কোনো রঙের ধারাকে অনুসরণ করা হয় না। উৎসবের সময় সব রংই ফুটে ওঠে পোশাকে। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা ফুলেল নকশা নিয়ে কাজ করছি। এতে একটা রঙিন পরিবেশ পাওয়া যাবে পোশাকে। ভিসকস কাপড়ের ওপর ফুলেল এবং বিমূর্ত ডিজাইন করা হয়েছে। পোশাকের করা হয়েছে প্যাটার্ন ভিন্নতার পাশাপাশি ভ্যালু এডিশনও।’

তবে এই বাড়ন্ত বয়সে কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। কোনো পোশাক, গয়না, জুতা যদি বহন করতে না পারা যায়, তাহলে সেটা না পরাই ভালো। কিশোরীদের সাজ নিয়ে আমরা সব সময়ই বলে এসেছি যে এ বয়সে মেকআপ ব্যবহার না করাটাই ভালো। এ বয়সের সৌন্দর্য অন্য কোনো বয়সে পাওয়া যাবে না। কাজল আর হালকা রঙের লিপস্টিক ছাড়া অন্য কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং পোশাক, গয়না, জুতা, ব্যাগের ওপর মনোযোগ দিয়ে পুরো সাজটাতে ভিন্নতা আনা যায়।

মডেল : প্রিয়া ও জেরিন

পোশাক : রঙ বাংলাদেশ মেকওভার : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড

ছবি : সাগর হিমু

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj