থাকতে চাইলে অনলাইনে নিরাপদ

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন অনেকেই একাধিক সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, সোস্যাল মিডিয়া বা ই-মেইলে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, তা কতটা শক্তিশালী কিংবা নিরাপদ। ফেসবুক বা টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্ম ও ই-মেইল অ্যাকাউন্টে সবসময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। প্রশ্ন হলো পাসওয়ার্ড কীভাবে শক্তিশালী করা যায়। শুধু এক জাতীয় অক্ষর, সংখ্যা কিংবা চিহ্ন ব্যবহার না করে একত্রে অক্ষর, সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্ন ব্যবহার করুন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, সোস্যাল মিডিয়ায় সবকিছু শেয়ার করা উচিত নয়। কাজেই গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়, যা সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চান না, কোনোভাবেই অনলাইনে আপলোড করবেন না। সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোয় নানা ধরনের প্রাইভেসি সেটিংস থাকে, তা সত্ত্বেও হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্টের জন্য দর্শক নির্ধারণ করে দিতে পারেন। চাইলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে ব্লুক করে পোস্ট করতে পারেন। তথ্য বেহাতের ঝুঁকি থেকে যায়।

অনেকেই ফেসবুক কিংবা টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোয় পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে বন্ধু তালিকায় স্থান দেন। এটা মোটেও ঠিক নয়। অনলাইনে নিরাপদ থাকতে সোস্যাল মিডিয়ায় শুধু পরিচিতদের বন্ধু করুন। কারণ সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় বন্ধু বেশে সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। ক্ষতিকর বার্তা মাধ্যমে সোস্যাল মিডিয়া বা ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

সোস্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত বা অন্যের মূল্যবোধে আঘাত দেয়, এমন কোনো বিষয় পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টানা বিতর্কিত পোস্ট করতে থাকলে নির্দিষ্ট গ্রুপের মাধ্যমে সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারেন। এর ফলে বেহাত হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য এবং আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হতে পারে। এ ছাড়াও, সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোও এখন বিতর্কিত পোস্ট বিষয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। এমন পোস্টের কারণে সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট ব্লুক করা হতে পারে।

ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই কতটা নিরাপদ? বিভিন্ন কারণে পাবলিক ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ধরনের নেটওয়ার্ক কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করাটাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। কাজেই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে হলে হালনাগাদ অপারেটিং সিস্টেমচালিত ডিভাইস ব্যবহার করুন। ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করে কেনাকাটা কিংবা যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলুন।

অনলাইনে অপরিচিত কারো সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিময় করা ঠিক না। যদি করতেই হয়, তবে আগে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিন। কারণ অনলাইনে ছদ্মবেশী বন্ধুদের দ্বারা হ্যাকিংয়ের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছদ্মবেশী বন্ধুরা ইনবক্সে বা ই-মেইলে ম্যালওয়্যারযুক্ত বার্তা প্রেরণ করে। বন্ধু তালিকার হওয়ায় কোনো প্রকার বাছবিচার ছাড়াই যে কেউ পাঠানো বার্তা খুলে বসেন।

ইন্টারনেট এবং মোবাইল ডিভাইস সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। অনেকেই নানা প্রয়োজনে একাধিক ই-মেইল বা সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন। তবে বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে কখনই একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ঠিক না। পাসওয়ার্ড অনলাইন নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই একাধিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে হলে পৃথক এবং অক্ষর, নম্বর ও বিভিন্ন চিহ্ন দিয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় পর প্রত্যেকটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিন। এতে করে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলেও অনলাইনে সুরক্ষিত থাকা যাবে। হ ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj