আলহাজ টেক্সটাইলের কারখানা বন্ধের মেয়াদ বাড়ছেই

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : চলতি মূলধনের তীব্র সংকটের পাশাপাশি গুদামে মজুদ পণ্য রাখার জায়গা না থাকা এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে সুতা বিক্রিতে ধস নামায় প্রথম দফায় এ বছরের ২৫ জুন থেকে ৩০ দিনের জন্য কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। এক মাসের বিক্রিতে কোনো ধরনের অগ্রগতি না হওয়ায় ৮ আগস্ট পর্যন্ত আরো ১৫ দিনের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে বর্ধিত মেয়াদ শেষেও কোম্পানির উৎপাদিত মজুদ সুতা অবিক্রীত থাকায় এবার আজ থেকে আরো ১৫ দিনের জন্য কারখানা বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।

জানতে চাইলে আলহাজ টেক্সটাইলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. শওকত আলী বলেন, আমাদের কারখানায় মজুদ পণ্য রাখার জায়গা নেই। গুদামের পাশাপাশি কারখানার বিভিন্ন জায়গায় উৎপাদিত সুতা রাখা আছে। অন্যদিকে এগুলো বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কারখানা বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে ঈদের পর আমরা মজুদ পণ্য বিক্রি করার জন্য বেশ কয়েকজন ক্রেতার কাছে যাব। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত মজুদ সুতা বিক্রির পাশাপাশি আবারো উৎপাদন চালু করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আলহাজ টেক্সটাইল লিমিটেডের পাওনা ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৪ এপ্রিলের মধ্যে আলহাজ টেক্সটাইলকে ২৫ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আদালতের নির্দেশ অনুসারে ব্যাংক কোম্পানিটিকে এ অর্থ পরিশোধ করে। সর্বশেষ গত ৭ মে দুই সপ্তাহের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংককে আলহাজ টেক্সটাইলকে আরো ১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। সে নির্দেশনা অনুসারে ব্যাংক তা কোম্পানিটিকে পরিশোধ করেছে। সব মিলিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে ৩৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা পেয়েছে আলহাজ টেক্সটাইল।

অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া ৩৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে রাখা আছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা। আপাতত এ অর্থ ব্যবসার কাজে ব্যয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। তা ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে অর্থঋণ আদালতে আলহাজ টেক্সটাইলের বিএমআরই প্রকল্পে অর্থায়ন সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে। ব্যাংকের দাবি অনুসারে তারা বিএমআরই প্রকল্পে অর্থায়ন বাবদ ৩৬ কোটি টাকা পাবে। অন্যদিকে কোম্পানির হিসাব অনুসারে এটি ১৩ কোটি টাকার বেশি হবে না।

চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১১ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৮ পয়সা। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৩ পয়সা, যেখানে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ইপিএস ছিল ৪২ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১০ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের বছরের ৩০ জুন ছিল ১২ টাকা ৩৮ পয়সা।

এদিকে কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আলহাজ টেক্সটাইলের শেয়ারদর কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে। ২১ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪৩ টাকা ২০ পয়সা। আর গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৬৩ টাকা ২০ পয়সায়। ১৪ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আলহাজ টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন প্রায় ২২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ সরকার, ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৭৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১৪৬ দশমিক ৯৮।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj