লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাত ময়দান

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্মেলন পবিত্র হজের মূলপর্ব শেষ হয়েছে। লাখো মুসল্লির কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারিকা লাক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সা¤্রাজ্যও তোমার) ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে সৌদি আরবের মক্কার আরাফাতের ময়দান।

সেলাইবিহীন শুভ্র কাপড়ে গতকাল শনিবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সারা বিশ^ থেকে সমবেত মুসলমানরা ছিলেন আরাফাত ময়দানে। চার বর্গমাইল আয়তনের এ বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিংরোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। এ আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজ পূর্ণ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হয় স্বল্প সময়ের জন্য।

ইসলামি রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হলো হজ। আরাফাত থেকে মিনায় ফেরার পথে সন্ধ্যায় মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়েন সমবেত মুসলমানরা। মুজদালিফায় রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকেন তারা। এ সময় তারা সাতটি পাথর সংগ্রহ করেন, যা মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হয়। আজ রবিবার সকালে মিনায় ফিরে সেই পাথর তারা ছুড়বেন। এরপর কুরবানি দিয়ে ইহরাম ত্যাগ করবেন। সবশেষে কাবা শরিফ বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে মিনায় অবস্থান নেয়ার মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয়েছে পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা। গত শুক্রবার সারা দিন ও রাত তারা মিনায় কাটান ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মশগুল ছিলেন জিকির ও তালবিয়াতে।

হজ মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম সম্মেলন। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি গণমাধ্যমকে জানান, এ বছর প্রায় ২৫ লাখ মুসল্লি হজব্রত পালন করতে এসেছেন। এর মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ১৮ লাখ ব্যক্তি। বাংলাদেশি রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার। সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে পবিত্র কাবা ঘরের অবস্থান। চার কোণা বিশিষ্ট এই ঘরটিই ইসলামের মূল লক্ষ্যস্থল। ঘরটি স্বর্ণখচিত কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানরা কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে। ঘরটি গ্র্যান্ড মসজিদের ভিতরে অবস্থিত। হজযাত্রীদের ঘরটির চতুর্দিক দিয়ে সাতবার ঘুরতে হয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj