ডেঙ্গু ও বন্যায় উৎসব মাটি

রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

খোন্দকার কাওছার হোসেন : একদিকে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, অন্যদিকে বন্যায় বিপর্যস্ত দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এমন বিপর্যয়ের মধ্যেই উৎসবের উপলক্ষ। দিনক্ষণ আগেই নির্ধারিত হয়ে আছে। মুসলমানদের জীবনে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল সোমবার। এ ঈদের বিশেষত্ব হলো পশু কুরবানি করা। ইতোমধ্যে সারা দেশে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। পশু কেনা ও যতœ-পরিচর্যাতেই ঈদের মূল প্রস্তুতি ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়ে যায়।

রাজধানী ঢাকার ২৫টি হাটে ট্রাকে করে কুরবানির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও উট আনা হয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। কুরবানিদাতারা পছন্দের পশুটি কেনার জন্য গাবতলীর প্রধান হাটসহ সুবিধামতো বিভিন্ন হাটে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পশু কিনে ভবনের কার পার্কিং ও সামনের ফুটপাতে বেঁধে রেখেছেন। গবাদিপশুর ডাকও বেশ শোনা যাচ্ছে এখানে-সেখানে। রাজপথে দেখা যাচ্ছে গলায় রঙিন কাগজ ও জরির মালা জড়ানো হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়সহ পশুর দড়ি ধরে ঘরমুখো চলছেন ক্রেতারা। শহুরে আবহে তা অন্যরকম বৈচিত্র্য এনেছে। মহল্লার অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে তাজা কাঁঠালপাতা, খড়-বিচালি-ভুসি, দা, ছুড়ি, বটি, খাটিয়া (গাছের টুকরা), হোগলা, পাটি।

রাজধানীর এমন চিত্রের পাশাপাশি ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। পরিবারের সদস্য ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকায় ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে অনেকের। এমনকি কুরবানি করার মতো পরিস্থিতিও নেই কারো কারো। পরিবারের কর্তা কিংবা গৃহিণী অথবা ছোট শিশুটি আক্রান্ত থাকায় ঈদ আনন্দের পরিবর্তে বেদনার জন্ম দিয়েছে। এমন চিত্র শুধু রাজধানীতেই নয় সারা দেশেই। সবার মধ্যেই ডেঙ্গু আতঙ্ক। ঈদ নিয়ে অন্যবারের মতো তেমন উচ্ছ¡াস নেই কোথাও।

অন্যদিকে বন্যা উপদ্রুত এলাকায়ও এবার ঈদের উৎসব ফিকে। দুর্গতরা সর্বস্ব হারিয়ে এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। অনেক বিত্তবান পরিবারও কুরবানি করার আর্থিক সঙ্গতি হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ কুরবানি করার পশু বিক্রি করে দিয়েছেন বন্যার কারণে লালন পালন করতে না পারায়।

এমন পরিস্থিতিতেও ধর্মীয় কারণে সামর্থ্যবানরা পশু কুরবানি দেবেন। কুরবানি দেয়া আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওয়াজিব। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কুরবানি করার বিধান রয়েছে। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কুরবানি করা হয়। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে সমস্ত লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা মানুষের ভেতরের পশুত্বকে ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি লাভের ভেতরেই রয়েছে কুরবানির প্রকৃত তাৎপর্য।

কুরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে হজরত ইব্রাহিমের (আ.) কুরবানির ঘটনা অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কুরবানি দিয়ে থাকেন। ঈদের নামাজের জামাতের আগে খুতবায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কুরবানির কাহিনি তুলে ধরেন ইমামরা। বিন¤্র চিত্তে তাদের স্মরণ করেন সারা বিশ্বের মুসলমানরা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তারা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj