শাকিব-বুবলীর ঈদ

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও শবনম বুবলী। জুটির প্রথম ছবি মুক্তি পায় ২০১৬ সালের ঈদে। মাত্র তিন বছরে এই জুটি শক্ত জায়গা করে নিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ঈদেই শাকিব-বুবলী অভিনীত ছবি মুক্তি পেয়েছে। এবারের ঈদেও তাদের দেখতে পাবেন দর্শকরা। এই জুটির ঈদযাত্রা নিয়ে লিখেছেন স্বাক্ষর শওকত

বসগিরি

শাকিব-বুবলী জুটির প্রথম ছবি ‘বসগিরি’। শামিম আহমেদ রনি পরিচালিত দ্বিতীয় এ ছবিতে প্রথম নায়িকা হয়ে আসেন শবনম বুবলী। ২০১৬ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়ে ‘বসগিরি’ সাফল্য লাভ করে। ছবির গানগুলোর মধ্যে ‘দিল দিল দিল’ গানটি দর্শকপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকে। যদিও ছবির শুরুতে নায়িকা ছিলেন অপু বিশ^াস। পরে অপু নিজেকে সরিয়ে নিলে সংবাদ পাঠিকা থেকে নায়িকা বনে যান বুবলী।

শুটার

‘বসগিরি’র সঙ্গে মুক্তি পায় ‘শুটার’ও। এটিও ঈদের ছবি। কিন্তু ‘বসগিরি’র মতো দর্শকরা ‘শুটার’কে পছন্দ করেননি। অ্যাকশনধর্মী এ ছবিতে শাকিব-বুবলীর রসায়ন খুব একটা জমেনি। রাজু চৌধুরী পরিচালিত ‘শুটার’ শাকিব-বুবলী জুটির জন্য তেমন সহায়ক হয়নি। যদিও বক্স অফিসে একেবারে খারাপ করেনি ছবিটি। কিন্তু তার জন্য প্রযোজকের ব্যবসায়িক কৌশলকেই কৃতিত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।

রংবাজ

২০১৭ সালের ঈদুল আজহার ছবি ‘রংবাজ’। শামিম আহমেদ রনির পরিচালনায় পর্দায় আসেন ‘বসগিরি’র জুটি। কিন্তু এবার আগের মতো ম্যাজিক ছড়াতে পারেনি ‘রংবাজ’। যদিও ছবির শুটিং হয়েছে সুইজারল্যান্ডে, কিন্তু ব্যবসায়িক বিচারে আশাজাগানিয়া কিছু করে দেখাতে পারেনি ‘রংবাজ’। ছবিটিকে নিয়ে প্রত্যাশার কমতি ছিল না। ছবির সঙ্গে কলকাতার শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মসের নাম জড়াতেই দর্শকদের আশার মাত্রা বেড়েছিল।

অহংকার

২০১৭ সালে ‘রংবাজে’র সঙ্গে আসে ‘অহংকার’ও। ‘রংবাজ’ যদি হয় শাকিব খানের ফ্যাশনে ডুবে যাওয়ার ছবি, তবে ‘অহংকার’ বুবলীর অভিনয়ে বিনোদিত হওয়ার ছবি। ‘অহংকারে’ কাজ দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন বুবলী। শাকিব-বুবলীর রসায়নও জমেছিল। শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত এ ছবি ব্যবসায় মার মার কাট কাট না যায়নি।

চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া

উত্তম আকাশ ২০০৬ সালে নির্মাণ করেছিলেন ‘ঢাকাইয়া পোলা বরিশালের মাইয়া’। শাকিব খান ও শাবনূর অভিনীত সেই ছবি হয়েছিল আলোচিত ও সুপারহিট। সেই সাফল্যকে মাথায় রেখে ২০১৮ সালের ঈদুল ফিতরে উত্তম আকাশ নির্মাণ করেন ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’। সময়ের দাবিতে ‘পোলা’ ঠিক থাকলেও পাল্টে যান ‘মাইয়া’। শাবনূরের জায়গায় আসেন নোয়াখালীর মেয়ে বুবলী। শাকিব-বুবলী জুটিকে দর্শকরা নতুনভাবে দেখতে পেলেও শাকিব-শাবনূরের ক্যারিশমার কাছে যেতে পারেনি নতুন জুটি। ব্যবসায়ও ভাঙতে পারেনি পুরনো রেকর্ড।

সুপার হিরো

এবার আর রোমান্টিক, সামাজিক ছবি নয়, একেবারে থ্রিলার ছবি নিয়ে দর্শকদের চমকে দিতে এলেন শাকিব-বুবলী। পরিচালকও শাকিব-বুবলীর জন্য প্রথম। পরিচালক আশিকুর রহমান ছবির শুটিং ইউনিট নিয়ে চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়ায়। হার্টবিট প্রডাকশনের প্রযোজনায় সব ছবিতেই সাফল্যের মাত্রা ছুঁয়েছেন শাকিব। কিন্তু বুবলীর সঙ্গে শাকিব বড় সাফল্য পেলেন না।

ক্যাপ্টেন খান

ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় অসংখ্য ছবিতে কাজ করেছেন শাকিব খান। কিন্তু বুবলীকে নিয়ে এই পরিচালকের সঙ্গে এবারই প্রথম কিং খান। এ ছবিতে শাকিব ‘ক্যাপ্টেন খান’। তার প্রেমিকার চরিত্রে বুবলী। ‘ক্যাপ্টেন খান’ মুক্তি পায় ২০১৮ সালের ঈদুল আজহায়। ছবির নির্মাণশৈলী প্রশংসিত হয়। বড় মাপের সাফল্য এবারো অধরা থেকে যায় শাকিব-বুবলীর।

পাসওয়ার্ড

বহু বিতর্কের জন্ম দিয়ে গত ঈদুল ফিতরে সিনেমা হলে আসে ‘পাসওয়ার্ড’। পরিচালক মালেক আফসারীর আবোল-তাবোল বক্তব্য উত্তপ্ত করে দেয় ইন্ডাস্ট্রিকে। ফলে আলোচনা থেকে ছিটকে যান শাকিব-বুবলী জুটি। নায়ক শাকিব খানের চেয়েও বড় হয়ে ওঠেন প্রযোজক শাকিব খান। তবে মুক্তির পর শাকিব-বুবলীর ক্যারিয়ারে যোগ হয় একটা হিট ছবি। নকলের দায়ে সমালোচিত হলেও শাকিব-বুবলী সাফল্যেই খুঁজে নেন নিজেদের আত্মতৃপ্তি। ছবির সাফল্যে আগামী বছরের ঈদকে টার্গেট করে আসছে ‘পাসওয়ার্ড টু’।

মনের মতো মানুষ পাইলাম না

প্রতি ঈদেই শাকিব-বুবলীর ছবি। গত তিন বছরে একটি ঈদ ছাড়া প্রতি ঈদেই দর্শকরা দেখতে পেয়েছেন এই জুটির ছবি। এবারের ঈদুল আজহায় হল মালিকদের আগ্রহে আছে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় শাকিব খান কাজ করেছেন আগে, পেয়েছেন সাফল্যও। এবার রাজু প্রথমবারের মতো নির্দেশনা দিয়েছেন শাকিব-বুবলীকে। খুব দ্রত ছবির কাজ করেছেন রাজু। যদিও ছবির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে, হয়েছিল মহরত; সম্পূর্ণ সেটআপ বদলে শুধু শাকিব খানকে ঠিক রেখে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ নির্মিত হয়েছে। এই জুটির পেছনের ঈদের সাফল্যকে দৃষ্টান্ত মেনে সংশ্লিষ্টরা দর্শকপ্রিয়তার প্রত্যাশা করছেন। ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ হয়তো হবে দর্শকদের মনের মতো ছবি।

বিনোদন হাইলাইটস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj