শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন, কিশোরগঞ্জ থেকে : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে বৃহত্তম ঈদ জামাতের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯২তম ঈদুল আজহার জামাত। জামাত শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। মাঠের ইমাম ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ হজ পালন করতে সৌদি আরবে যাওয়ায় জামাতে ইমামতি করবেন প্যানেল ইমাম কিশোরগঞ্জ মার্কাস মসজিদের ইমাম হিফজুর রহমান খান। বেশি মুসল্লির সঙ্গে ঈদের জামাত আদায় করলে দোয়া কবুল হয়- এমন আকর্ষণে এ মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন লাখ লাখ মুসল্লি। তিন বছর আগে ঈদের দিন জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে এবার তিন স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মুসল্লিসহ সবার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভোর থেকে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। নিরাপত্তার কারণে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া কোনো কিছু সঙ্গে না নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে মাঠের দাগ কাটা, মেহরাব ও দেয়ালে চুনকাম করা, ওজুখানা তৈরি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ ঈদ জামাত আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত আয়োজনে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একযোগে কাজ করছেন।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদের দিন ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তারা। পর্যাপ্ত পুলিশ ও র‌্যাব ছাড়াও মাঠে থাকবেন বিজিবির বিপুল পরিমাণ সদস্য। এ ছাড়া সাদা পোশাকে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ সদস্যও থাকবেন। মাঠে আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকার আকাশে উড়ানো হবে ড্রোন। যাতে মুসল্লিসহ সব কিছুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যায়। অন্তত তিনটি স্থানে তল্লাশির পর মুসল্লিদের মাঠে ঢুকানো হবে। পুরো মাঠকে আটটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। ৩২টি চেকপোস্ট, ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, মেডিকেল টিম, বোম ডিসপোজাল টিম ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ জানান, শোলাকিয়া মাঠে আগমনের সব সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ঈদ জামাত নির্বিঘ্ন করতে মাঠে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জামাত চলার আগে থেকেই মাঠে ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড়ানো হবে। প্রত্যেক মুসল্লিকে তল্লাশির মাধ্যমে মাঠে প্রবেশ করানো হবে। সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তা ছাড়া ঈদ জামাত আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের কারণে শোলাকিয়া মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj