আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ : নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, সেই রাষ্ট্রে অন্য ভাষাভাষী মানুষ তাদের ভাষা, সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলবে সেটা হতে পারে না। এ আহ্বান আমরা রাষ্ট্রের কাছে করব। বক্তারা বলেন, প্রতিদিন পৃথিবী থেকে অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ছয় হাজার ভাষার মধ্যে আগামী ৫০ বছর পর কয়টি ভাষা টিকে থাকবে বলা কঠিন। প্রত্যেকের চেষ্টা করা উচিত যার যার ভাষা এবং সংস্কৃতিকে রক্ষার করা।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা বক্তৃতা করছিলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌরভ শিকদার, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল মোতালেব জোয়েল। আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুলভ চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হাজং।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌরভ শিকদার বলেন, ভাষা চর্চার বিষয়ে আপনারাও সচেতন হবেন। রাষ্ট্র সহযোগিতা করবে। গবেষকরা কাজ করবে। আপনাদের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে। তাহলেই এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ভাষা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের আহ্বান নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।

স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক বাদল হাজং বলেন, আদিবাসীদের ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া না হলে আগামীতে এ জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের যে মানসম্মত শিক্ষার কথা বলা হয়েছে তা পূরণ করার জন্য আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসীদের জন্য পৃথক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন না করলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।

অবশ্য প্রতি বছর ৯ আগস্ট দিবসটি পালিত হলেও কুরবানির ঈদের কারণে এবছর ৫ আগস্ট সোমবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আদিবাসী ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন’ এই প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

পালন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। উল্লেখ্য, প্রায় ছত্রিশ বছর আগে ১৯৮২ সালে জাতিসংঘে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করা হয় এবং ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতি বছরের আগস্ট মাসের ৯ তারিখ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj