এস এম সুলতানের ৯৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বিশ^বরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতান। যার তুলির আঁচড়ে প্রতিভাত হয়ে উঠেছিল মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, লড়াই ও সংগ্রাম। যিনি বাস্তবতাকে তুলে ধরেছিলেন তার চিত্রকর্মে। মেহনতি মানুষের পক্ষের শক্তিকে আরো দৃঢ় করেছেন তিনি ছবির ভাষায়। তার সব ছবিজুড়ে রয়েছে আশপাশে দেখা মানুষ ও নৈসর্গিক দৃশ্যপট। তার আঁকা বাংলার নিসর্গ সাধারণত জল রং মাধ্যমে করা। সেখানে অথৈ জলের বিস্তার আর আকাশ, বিলীয়মান দিগন্ত, তালগাছ, নৌকা, জেলে, কুঁড়েঘর অর্থাৎ শান্তপল্লীর মায়াবি পরিবেশ বিদ্যমান। যিনি গ্রামবাংলার কাছে কবি জীবনানন্দের মতো বারবার ফিরে এসেছেন। গ্রামবাংলার স্মৃতিকে জাগরুক করেছেন অপার বিস্ময়ে।

বিশ^বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর ৯৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে কোরআনখানি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, শিশুস্বর্গ মিলনায়তনে শিল্পীর বর্ণাঢ্য জীবনীর ওপর আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী।

সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও এস এম সুলতানের ৯৫তম জন্মজয়ন্তী যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট শিল্পী সুলতান নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজমিস্ত্রি পিতা মেছের আলীর নান্দনিক সৃষ্টির ঘঁষামাজার মধ্য দিয়ে ছোট বেলার লাল মিঞার (সুলতান) চিত্রাঙ্কনে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ হয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন লাল মিঞা নড়াইলের তৎকালীন জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের সুদৃষ্টিতে পড়েন। এ সময় তিনি সুলতানকে কলকাতায় নিয়ে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও শিল্প-সমালোচক কলকাতা আর্ট স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক সায়েদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একাডেমিক যোগ্যতা বিচার না করেই ১৯৪১ সালে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অষ্টম শ্রেণি পাস সুলতানকে কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি করা হয়।

১৯৪৪ সালে কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান দখল করে চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ হন শিল্পী সুলতান। কিন্তু প্রথাগত শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেননি তিনি। ছাত্রাবস্থায় তিনি কলেজ ছেড়ে কাশ্মিরের পাহাড়ি অঞ্চলে উপজাতীয়দের সঙ্গে বসবাস ও তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে চিত্রাঙ্কন শুরু করেন। পরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফরে বেরিয়ে পড়েন।

চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ক্যামব্রিজ বিশ^বিদ্যালয় ‘ম্যান অব এশিয়া’ ঘোষণা করে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে পেয়েছেন বিভিন্ন ধরনের সম্মাননা।

সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তার নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।

চিরকুমার, অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী দীর্ঘদিন শ^াসকষ্টে ভোগার পর ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। নড়াইলের নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় তাকে সমাহিত করা হয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj