চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর নার্স হত্যা : চালক-হেলপারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

শুক্রবার, ৯ আগস্ট ২০১৯

সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন, কিশোরগঞ্জ থেকে : জেলার বাজিতপুরে চলন্ত বাসে চাঞ্চল্যকর নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৩) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বাসচালক ও হেলপারসহ ৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার ওসি (তদন্ত) সারওয়ার জাহান কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগপত্রে আসামিরা হলো- স্বর্ণলতা বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের সহকারী লালন মিয়া, বোরহান, আল আমীন, রফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া, বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুল, বাসের এমডি পারভেজ সরকার পাভেল ও বাসের মালিক আল মামুন। আসামিদের মধ্যে ৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। তারা হলো- নূরুজ্জামান নূরু, লালন মিয়া, রফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া, বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুল ও আল মামুন। বোরহান, আল আমীন ও পারভেজ সরকার পাভেল এ ৩ আসামি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণ ও মাথায় আঘাতজনিত কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর বাসসহ বেশকিছু আলামত জব্দ করে পুলিশ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন, স্বর্ণলতা পরিবহনের দুটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪ ও ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৬২৮৫)। নিহত তানিয়ার পরিহিত কাপড়, আসামিদের পরিহিত কাপড় ও মোবাইল ফোন রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে বিকেলে ঢাকার মহাখালী থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার গজারিয়া বিলপাড় এলাকায় তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ব্যাপারে তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে ৭ মে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তানিয়া ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসছিলেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, মামলার এজাহার নামীয় ৪ আসামির মধ্যে ৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ ৩ জন সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত। এ কাজে সহায়তার কারণে আরো ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবদুুল্লাহ আল মামুনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj