পাবনার ৩ জায়গায় এডিস মশার লার্ভা : ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই

শুক্রবার, ৯ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : পাবনার তিন জায়গায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এদিকে নগর-মহানগর ছাড়াও জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

পাবনা : পাবনা পৌর এলাকার তিন জায়গায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার সিভিল সার্জন মেহেদী ইকবাল গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে ধারাবাহিকভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা চালাচ্ছে একটি দল। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভিল সার্জন দপ্তরের কিটতত্ত্ববিদ হেলাল উদ্দিন।

গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত জেলার কোথাও ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার অস্তিত্ব না মিললেও বেশ কয়েকজন রোগী পাবনা থেকেই আক্রান্ত হওয়ায় তৎপরতা বাড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বুধবার পৌর এলাকার ৩০টি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে তিনটি স্থানে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান মেলে। সেগুলো হচ্ছে শহরের বাস টার্মিনাল, বিআরটিসি বাস ডিপো ও আব্দুল হামিদ রোডের লতিফ টাওয়ার।

সিভিল সার্জন বলেন, পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি ও নির্মাণাধীন ভবনে এই লার্ভার সন্ধান পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যেহেতু তিনটি পৃথক স্থানে লার্ভা পাওয়া গেছে সেহেতু জেলার আরো অনেক স্থানেই এডিস মশা রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। বাড়ির আশপাশে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে জনগণকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরিফ হোসেন কাজল (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের এম এম এ ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। সে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের খৈলসিন্দুর গ্রামের মো. আলম মিয়ার ছেলে।

কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় জানান, গত রবিবার আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই কাশির সঙ্গে রক্ত ও বমি হতে থাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অবস্থার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাতেই নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে কুমুদিনী হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কক্সবাজার : কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দিন দুয়েক আগে কিছুটা শিথিলতা ফিরলেও এখন আবার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ে এ রকম পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জন ঠিকমতো কর্মস্থলে থাকেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিভিল সার্জনের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সভায় বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকজন সদস্য। সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখবেন বলে সভাকে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্যও।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন কমিটির একজন সদস্য। এ সময় সিভিল সার্জন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নজরে আনেন। সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন সিভিল সার্জনের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, উনি (সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মতিন) ঢাকায় আছেন।

ডা. মহিউদ্দিন আলমগীরের এই জবাবের বিরোধিতা করেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সদস্য। ওই সদস্য বলেন, সিভিল সার্জন গত মঙ্গলবার বিকেলে অফিসে ছিলেন। পরে ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর আবার বলেন, বিকেলে তিনি (সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মতিন) ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন। এরপর সকালে আবারো ঢাকায় চলে যান। তবে কেন ঢাকায় গেছেন সেই বিষয়ে কিছুই জানাননি ডা. মহিউদ্দিন মো. আলমগীর।

ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জনের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জানার পর সভাপতিসহ অনেক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রায় সময় তিনি কক্সবাজার থাকেন না বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন।

তার অনুপস্থিতিতে সিভিল সার্জনের দায়িত্বপালন করেন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। ডা. মহিউদ্দিন আলমগীরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে প্রায়ই জেলার বাইরে ঘুরে বেড়ান সিভিল সার্জন- এমন অভিযোগ সিভিল সার্জন অফিসের কর্মচারীদেরও। সিভিল সার্জনের খামখেয়ালিপনার কারণে জেলার স্বাস্থ্য সেক্টরে চরম অনিয়ম বিরাজ করছে। যে যার ইচ্ছেমতো কাজ করছে। কোনো জবাবদিহিতা নেই বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।

এদিকে কক্সবাজার জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের হিসাবমতে জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ পঙ্কজ পাল বলেন, গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার সদরে ৭, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১, মহেশখালীতে ১, পেকুয়ায় ১, উখিয়ায় ২ ও রামুতে ১ জন। সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ জন এবং শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ১ জন। বাকি তিনজন রোগী এখনো ভর্তি হননি।

তিনি আরো বলেন, জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কিছুটা কম থাকলেও এখন আবার বেড়েছে।

পটুয়াখালী : রাজধানী ঢাকার বাইরে পটুয়াখালীতেও প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পটুয়াখালী হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিটস শেষ হয়ে গেছে। ফলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ৫২ জন রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাইদুজ্জামান জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। তবে আতঙ্কিত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুর পরীক্ষা করানোর কারণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস শেষ হয়ে গেছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj