সাবের হোসেন চৌধুরী : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা বছর কাজ করতে হবে

বুধবার, ৭ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালীন সময়ের সমস্যা না ভেবে এ নিয়ে আমাদের সারা বছর কাজ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিসহ এ নিয়ে নানা কাজ করছি আমরা। ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকার জন্য ০১৭৩০৭৩০৭৭৭ এ নম্বরে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। এ নম্বরে ডেঙ্গু সংক্রান্ত যে কোনো সহায়তা, পরামর্শ ও অভিযোগ থাকলে আমাকে জানানো যাবে।

বেড (শয্যা) সংকটে থাকা মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিজ উদ্যোগে ১৫০টি ম্যাট্রেস হস্তান্তর শেষে গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখন পর্যন্ত ৪৯২ জন ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই এখানে আমাদের আলাদা একটি ক্যাম্প খুলতে হবে। এ ছাড়া জনবল সংকটও রয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মশার ওষুধ আসলেই কাজ করছে কিনা বা মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে না- এমন নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ আসছে হটলাইনে প্রতিদিন। কিন্তু একটি ওয়ার্ডে মশা নিধনের জন্য সর্বোচ্চ ৬টি ফগার মেশিন দিচ্ছে সিটি করপোরেশন। তার মধ্যে প্রত্যকটিই আবার সবসময় কাজ করছে না। আর এরকম একটি ভারি মেশিন কাধে নিয়ে মশা নিধনকারী ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটারের বেশি চলাও সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি বাসায় সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যে বিষয়টি করতে চাচ্ছি তা হলো সবাইকে সচেতন করা। আর এ কাজের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ডেঙ্গু জ¦র প্রতিরোধে আমরা যে লিফলেট তৈরি করেছি তা নিয়ে আলোচনা করা। আমি বলব ছাত্রছাত্রীরা এ বিষয়গুলো নিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করুক।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির উল্লেখ করে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার সরকারি মুগদা হাসপাতালসহ বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সুরাইয়া হাসপাতাল, আলফালাহ হাসপাতাল, খিদমাহ জেনারেল হাসপাতাল, আল রাজি ইসলামিয়া হাসপাতাল, অ্যাডভান্স হসপিটাল লিমিটেড, আল শিফা মেডিকেল সার্ভিসেস, হেলথ এইড হসপিটাল, বাসাবো সেন্ট্রাল হসপিটাল ও নিউ আনামিকা হাসপাতালে জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন। রিলিজ নিয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জন। বেসরকারি হাসপাতালে কেউ মারা না গেলেও মুগদা হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ১০ জন। এ ছাড়াও আমার এলাকায় নতুন হওয়া ৫টি ওয়ার্ডেও এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই এমন পরিস্থিতিতে কারো ওপর দোষারোপ না করে নিজ-নিজ ক্ষেত্র থেকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj