জ্বরে আক্রান্তরা ডেঙ্গু আতঙ্কে ছুটছে হাসপাতালে : চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

বুধবার, ৭ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতি দিনই বাড়?ছে। ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় তাদের কারো স্থান হয় মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোর মেঝেতে আবার কারোর ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়। ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে অনেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। মারাও গেছেন কেউ কেউ। এদিকে দেশের সর্বত্র চলছে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান। এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

বরিশাল : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল ক?লেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়?ছে। যাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলেও কারোর স্থান হয়েছে মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোর মেঝেতে আবার কারোর ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়।

গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালটিতে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। সোমবার এ সংখ্যা ছিল ১৫৪ জন। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হ?য়ে?ছেন ৭১ জন, যা এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা। এদের মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন, মহিলা ২৪ জন ও শিশু ১০ জন। অপরদিকে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩২ জন রোগী। যার মধ্যে ২১ জন পুরুষ, ৯ জন মহিলা ও ২ জন শিশু রয়েছেন। এদিকে হাসপাতালে বর্তমানে অবস্থানকারী ১৯৩ ডেঙ্গু রোগীর ম?ধ্যে পুরুষ ১১০, মহিলা ৬০ ও শিশু ২৩ জন রয়েছেন।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জেলায় ২৯ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে এক শিক্ষিকা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগী ভিড় করছেন হাজারেরও বেশি। এত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গেল ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া গতকাল ৫ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ হাসপাতালে একটি কক্ষকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘোষণা করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ সেবা দেয়া হচ্ছে। সদর হাসপাতালে একটি ডেঙ্গুসেবা ডেস্ক খোলা হয়েছে। এ ডেস্কের মাধ্যমে রোগীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের হাসপাতালে মোট ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেল ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫ জন আর ৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একজনকে গত রাতে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি শরীয়তপুরে থেকেও আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দিনাজপুর : দিনাজপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রবিউল ইসলামের (১৭) মৃত্যু হয়। রবিউল ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের নয়ন ইসলামের ছেলে।

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ৩০ জুলাই থেকে রবিউল এ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, এই প্রথম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হলো। আরো ৪৩ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

নীলফামারী : নীলফামারী সদর আধুনিক হাসাপাতালে ঢাকা ফেরত ৬ ডেঙ্গু আক্তান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ৪০ আক্তান্ত রোগীর ৬ জন ভালো হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ২৮ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে সিভিল সার্জন দপ্তর জানায়। নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. রঞ্জিত কুমার বর্মণ জানান, নীলফামারী জেলায় এখনো ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যায়নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সবাই ঢাকা ফেরত।

নাটোর : নাটোরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু সেল খোলার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০ দিনে জেলায় শনাক্ত ৫৭ জন। এর মধ্যে নাটোর সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ভর্তি করা হয় ২৪ জনকে। মঙ্গলবার সদর হাসপাতালে তিনজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করার পর তাদের ভর্তি করা হয়। রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের চক্ষু চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান ও ১ জন গর্ভবতী মহিলাসহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন। অপরদিকে বেসরকারি সততা ক্লিনিকে এ পর্যন্ত ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিকে ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে মানুষ এলাকায় এলে এর পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে মোট ১২০টি কিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা প্রায় শেষের দিকে। আরো কিটের বরাদ্দ চেয়ে লেখা হয়েছে। বরাদ্দ না এলে ডেঙ্গু নির্ণয়ে সমস্যার সৃষ্টি হবে। সে ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করতে হবে।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) : গত ৪৮ ঘন্টায় উল্লাপাড়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে মোট ২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনাক্ত হয়েছেন ৬ জন, নিউ ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫ জন, ঢাকা ক্লিনিকে ৪ জন এবং ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫ জন। এদের মধ্যে ৭ জন রয়েছে শিশু। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেহাব উদ্দীন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগ নির্ণয়ের পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বগুড়া বা ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঢাকা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী এম এম জামান জানান, তার রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj