৪৯ টন কুরবানির মাংস পাচ্ছে রোহিঙ্গা পরিবার

বুধবার, ৭ আগস্ট ২০১৯

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার পরিবার কুরবানির ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে জাঁকজমকভাবে। প্রতিটি পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করবে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। এসব এনজিও সংস্থা ইতোমধ্যে তালিকা প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের মাঝেও বিতরণ করা হবে কুরবানির মাংস।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রতি পরিবারের মাঝে কত কেজি করে মাংস বিতরণ হবে এটি চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিতরণের জন্য যত মাংস নির্ধারণ হবে তার ৩০ ভাগ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিরতণের নির্দেশনা রয়েছে। ৭০ ভাগ বিতরণ হবে আশ্রিত রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে। তবে প্রতিটি পরিবার কুরবানির মাংস পাবে। শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম জানিয়েছেন, এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের মাঝে মাংস বিতরণ করবে। সরকারিভাবে মাংস বিতরণ হবে না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এনজিও মাংস সরবরাহ ও বিতরণের জন্য তালিকাসহ সব কিছু চূড়ান্ত করেছে। আশা করি ঈদের পরদিন থেকে মাংস বিতরণ শুরু হবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, তুরস্কভিত্তিক এনজিও ডায়নেট ফাউন্ডেশন ৫০ হাজার কেজি মাংস বিতরণ করবে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে। ওই এনজিওর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বের ১৬০টি দেশে তারা কুরবানির মাংস বিতরণ করেন। এতে সর্বোচ্চ বিতরণ হবে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। আশা করি ২-১ দিনের মধ্যে সব কিছু চূড়ান্ত করে তালিকা প্রকাশ করতে পারব। অপরদিকে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে কুরবানির মাংস বিতরণের প্রশাসনিক উদ্যোগের বাইরেও কিছু দালাল চক্র বিচ্ছিন্নভাবে মাংস বিতরণের তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই চক্র রোহিঙ্গাদের মাঝে গরুর মাংস বিতরণের নামে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা লোপাট করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সুশৃঙ্খল উদ্যোগকে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি ওই চক্র নিজেদের স্বার্থ ও আর্থিক ফায়দা লোটার কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুরবানির ঈদ নিয়ে নিজেদের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে রোহিঙ্গাদের।

কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা বসবাসরত আবদুল মালেক জানান, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কুরবানির ঈদ উদযাপন করতে চান এবং চাহিদা অনুযায়ী কুরবানির মাংস পেলে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে খেতে পারবেন। এতে অন্তত ঈদ উদযাপনের মতো আনন্দ একটু হলেও পাবে বলে আশা তাদের।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত নুরুল আলম জানিয়েছেন, গত দুই বছর ঠিক এই সময় নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে বাংলাদেশে। এখানে এবারসহ তিনবার আমরা কুরবানির ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছি। শুনেছি প্রত্যেক রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ করা হবে। যা পাই তাতেই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে। রোহিঙ্গারা তো আর্থিকভাবে সচ্ছল নয় নিজেরা কুরবানি করবে। তবে কুরবানি করার সামর্থ্য আছে এমন পরিবারের সংখ্যা কম।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj