রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবস আজ

মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আধুনিক বাঙালির রুচির নির্মাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যিনি একক প্রতিভায় বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ^সাহিত্যের মর্যাদার আসনে। বাঙালির হৃদয়ানুভূতি ও অভিব্যক্তির সার্থক প্রকাশ ঘটেছে তার অসামান্য রচনায়। তার বৈচিত্র্যময় রচনাসম্ভার মানবিক আবেদনের মহিমায় হয়ে উঠেছে কালজয়ী। কবিতা, সঙ্গীত, উপন্যাস, ছোট গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনীসহ শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি শাখা তার প্রতিভার স্পর্শে দীপ্তিমান হয়ে উঠেছিল। এমনকি জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি গভীর আগ্রহে চিত্রকলা চর্চা শুরু করেন। তার সেসব কাজের ধরন আর দীপ্তি ভারতীয় উপমহাদেশের চিত্রকলায় ভিন্ন মাত্রা সংযোজন করেছে। বহুমুখী প্রতিভার আলোয় যেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে উদ্ভাসিত করেছিলেন রবির কিরণের মতোই।

কবিগুরুর প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। অজ¯্র রচনায় বাংলার বর্ষাকে তিনি অনিন্দ্য সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। আজ ২২ শ্রাবণ তার ৭৮তম প্রয়াণ দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের বর্ষা ঋতুর এই দিনেই চিরবিদায় নেন বাঙালির প্রাণের এই মানুষটি।

৮০ বছর বয়সে চলে গেলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ মৃত্যু যেন দেহান্তর মাত্র। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনেক কিছুরই প্রথম রূপকার তিনি। তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য নতুন যুগের সৃষ্টি হয়। বাংলা গদ্যের আধুনিকায়নের পথিকৃৎ রবিঠাকুর ছোট গল্পেরও জনক। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, এমনকি চিত্রকলায়ও রবীন্দ্রনাথ চিরনবীন-চির অমর। রবীন্দ্রনাথ আজও আমাদের মনমানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন। আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ’ নামের বানানটিও আমরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে পেয়েছি। বাঙালির যাপিত জীবনাচরণের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দেশজ শিক্ষা ব্যবস্থা বিকাশের লক্ষ্যে তিনি গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন ও বিশ^ভারতী বিশ^বিদ্যালয়। তিনি একজন সমাজ সংস্কারকও ছিলেন। গ্রামীণ সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কৃষির উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেন। বাংলায় আলু, ভুট্টা ইত্যাদি চাষের সূচনা ঘটে তারই উদ্যোগে। দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেয়ার লক্ষ্যে নোবেল পুরস্কারের অর্থে কৃষি ব্যাংকের কাজ শুরু করেন তিনি। বঙ্গভঙ্গ রদ করার দাবিতে তিনি হিন্দু-মুসলমানদের নিয়ে রাখিবন্ধন কর্মসূচিতে রাজপথে নেমে আসেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘নাইট’ উপাধি দিলেও ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আজকে জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যেখানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতার বাণী এবং তার মতাদর্শ জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। রবীন্দ্রচর্চা তরুণ সমাজকে করে তুলতে পারে মানবিক মূল্যবোধের অধিকারী।

কর্মসূচি : বাইশে শ্রাবণ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। যাতে একক বক্তৃতা দেবেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে একাডেমির আয়োজনে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ছায়ানট আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠানের। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ স্মরণে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতারেও থাকবে নানা আয়োজন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj