বন্দুকযুদ্ধ : রোহিঙ্গাসহ তিন জেলায় নিহত ৫

মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : বন্দুকযুদ্ধে ৩ জেলায় ৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ মাদক ও ধর্ষণ মামলার ২ আসামি, কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাসহ ২ জন এবং হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ডাকাত সর্দার মারা যায়। গত রবিবার রাত পৌনে ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মহানগরীর চর পুলিয়ামারি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী জনি মিয়া (২৬) এবং অপরজন জেলার ফুলবাড়িয়ার কালাদহ এলাকার গণধর্ষণ মামলার আসামি জহিরুল ইসলাম (২০)।

জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল হোসেন আকন্দ বলেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের চর পুলিয়ামারি এলাকায় মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে কিছু মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। একপর্যায়ে জনি মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ গ্রাম হেরোইন, ইয়াবা এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। জনির বিরুদ্ধে থানায় ৩টি মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নিহত জনির বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম এলাকায়।

অপরদিকে জেলার ফুলবাড়িয়ায় গণধর্ষণ মামলার মূল আসামি জহিরুল ইসলাম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। তার বাড়ি উপজেলার কৈয়ারচালা এলাকায়।

ডিবির ওসি জানান, গত ৩ আগস্ট ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ১৬ বছরের এক তরুণীকে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে ৩ বখাটে। রবিবার তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই তরুণী। রাতে ফুলবাড়িয়ার কালাদহ ঈদগাহ মাঠের সামনে ধর্ষণকারীরা অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে যায় ডিবি পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুড়ি ছুড়ে আসামিরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে আহত হয় জহিরুল ইসলাম নামে এক ধর্ষণকারী। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাইপগান উদ্ধার করেছে।

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত হয়েছে। তারা হলো- উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প নং-২ এর মৃত হায়দার শরীফের ছেলে নুরুল ইসলাম (২৭) এবং টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং নয়াবাজার এলাকার মৃত জলিল আহমদের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০)। ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি কিরিচ ও ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে নাফ নদীর ২ নম্বর ¯øুইচ গেট এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে- মিয়ানমার হয়ে একটি ইয়াবার বড় চালান নাফ নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে খারাংখালী নাফ নদীতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অবস্থান নেয়। রাত ৩টার দিকে ৪-৫ জন লোক এ পারে ঢুকতে দেখে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ করা মাত্রই বিজিবির ওপর গুলি ছুড়তে থাকে। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে বিজিবি ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ওই সব ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ২ জন যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাদের টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই দুই যুবক।

এ ব্যাপারে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিজিবির গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেলেও এ রিপোর্ট লেখা অবধি বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো কিছুই জানানো হয়নি।

হবিগঞ্জ : জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সে ডাকাত দলের সর্দার বলে পুলিশের জানিয়েছে। নিহত সুলাইমান মিয়ার (৩৫) বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া এলাকায়। রাত ৩টার দিকে উপজেলার ডেউয়াতলী কালীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, এক দল ডাকাতের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছানো মাত্র ডাকাত দল গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ আরো জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও রামদাসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj