বরেণ্য শিক্ষাবিদ অনুপম সেনের জন্মদিন পালন

মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেনের ৭৯তম জন্মদিন ছিল গতকাল সোমবার। বর্ণিল আয়োজনে বরেণ্য এই শিক্ষাবিদের জন্মদিন উদযাপন করেছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। এ উপলক্ষে নগরীর প্রবর্তক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নানা আয়োজন করা হয়।

এ সময় প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমি অভিভূত। আমার জন্মদিনের কথা আমার মনেই ছিল না। কিন্তু প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আমার জন্ম তারিখ মনে রেখে উদযাপন করছে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই ভালোবাসাকে আমি পাথেয় করে রাখব। আমি যেদিন চোখ বুজব- মনে হয়, তখনও এই ভালোবাসা আমার অন্তরে বিরাজ করবে।’ তিনি বলেন, ষাট বছর বয়স পেরুনোর পর জন্মদিন স্মরণ করানোর অর্থ হলো মৃত্যুর কথা মনে করান। তবে মৃত্যুর কারণে জীবনকে অর্থহীন মনে করার কোনো কারণ নেই। এ জীবনের গভীর অর্থ রয়েছে। মানবসেবায় নিজেকে নিযুক্ত করার মধ্য দিয়েই জীবনকে অর্থবহ করা যায়। শিক্ষক ও পুরনো বন্ধুদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৬৫ সাল থেকে শিক্ষকতায় নিয়োজিত আছি। পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। বর্তমানে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বস্তুত আমি যে এখনো শিক্ষকতায় নিয়োজিত আছি, এটা আমার জীবনের পরম পাওয়া।

ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণের পর প্রফেসর ড. অনুপম সেন জন্মদিনের কেক কাটেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক অমল ভূষণ নাগ, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম, প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তৌফিক সাঈদ, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদের সহকারী ডিন মঈনুল হক, স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সোহেল এম শাকুর, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার মনির, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান টুটন চন্দ্র মল্লিক, স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশিকুর রহমান, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খান, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ কে এম তফজল হক, উপাচার্যের উপদেষ্টা ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের, রেজিস্ট্রার খুরশিদুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, উপ-পরিচালক (হিসাব) হাছানুল ইসলাম চৌধুরী, স্থপতি শহিদুল হক ও ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান কাউছার আলম, সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৯৪০ সালের এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন অনুপম সেন। পিতা বীরেন্দ্রলাল সেন ও মাতা স্নেহলতা সেন। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার ধলঘাটে। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ড. অনুপম সেন। শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

প্রফেসর ড. অনুপম সেন ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান বুয়েটে) সমাজতত্ত্ব ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। তার লেখা বই কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকার ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেনের টিনবারজেন বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান, উন্নয়ন অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj