আমাদের কন্যারা কোথায় নিরাপদ?

সোমবার, ৫ আগস্ট ২০১৯

তনুশ্রী দেবনাথ

যতদিন যাচ্ছে মানুষের মানসিক বিকৃতি, নিষ্ঠুরতা বেড়েই চলেছে। স্বাভাবিক কিছুতে আর স্থিরতা পাচ্ছে না সেই বিকৃত মানুষগুলো। তাদের চাই আরো অন্যরকম কিছু, আরো এডভেঞ্চার। শিশুর প্রতি কামনা বোধ করা, ভুলিয়ে বা জোর করে তা চরিতার্থ করা হলো পেডোফিলিয়া। এ ধরনের লোকজন বা পেডোফিলরা শিশুদের নিগ্রহ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে হত্যাও করে। এরা আমাদের আশপাশেই থাকে। বেশিরভাগ সময় বড়রা তাদের চিনতে ভুল করে। শিশুরা অভিযোগ দিলেও আমলে নেন না। আবার লোক লজ্জা ও সামাজিকতার ভয়ে সঠিক পদপে নেন না। ভালো মানুষের মুখোশ পরে দিনের পর দিন শিশুদের যৌন হয়রানি করে যায়। কাছের কোনো আত্মীয়, পরিচিতরাও এরকম করছে। গণমাধ্যমে এসব খবর হরহামেশাই পাচ্ছি আমরা।

বিকৃতি এত চরমে পৌঁছে যে নিজ সন্তানকেও নিগ্রহ করতে পিছপা হয় না। ছেলে বা মেয়ে শিশু কেউই এদের কাছে নিরাপদ নয়। তবে মেয়ে শিশুরা বেশি নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। পেডোফিলরা খুব ভয়ংকর। নারী পেডোফিলও কিন্তু আছে। এরাও শিশুদের নিগ্রহ করে। এদের বেশিরভাগই কোনোদিন শুধরাতে পারে না। সামান্য অপরাধ থেকে ধীরে ধীরে তারা বিরাট তি করে। আবার কোনো শিশুকে নিরাপদ শৈশব দিতে না পারলে সেই শিশুও হয়ে উঠতে পারে অপরাধী। ক্রমাগত নিগ্রহের শিকার এক শিশু কয়েকদিন আগে নিগ্রহকারীকে হত্যা করেছে। শিশুটি এখন সংশোধনাগারে আছে। এমন খবরও আমরা পাচ্ছি। গণমাধ্যমে দেখছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব অপরাধীর সঠিক বিচার এবং অবশ্যই দ্রুতবিচার, অপরাধ প্রবণতা কমায়। কিন্তু ক্রসফায়ার, প্রকাশ্য শাস্তি এেেত্র সমর্থনযোগ্য নয়। ক্রসফায়ার বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে নিরপরাধীর চরম শাস্তি পাবার আশঙ্কা থাকে। আর প্রকাশ্য শাস্তি একদিকে হয়তো অন্যদের মনে ভীতি তৈরি করবে। কিন্তু তাতে অন্যদের নিষ্ঠুরও করে তুলতে পারে। কিছু প্রতিবাদহীন মানুষ, যারা নিজে অপরাধপ্রবণ, কিন্তু সুযোগ পেয়ে এরাই হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর।

আসুন, সবাই আমরা কোমলতার চর্চা করি। সুস্থ বিনোদন, সৃজনশীলতা দিয়ে মনের কলুষতাকে হটিয়ে দেই। হয়তো মানুষ হিসেবে কেউই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নই। কিন্তু স্বচ্ছতার, সততার চর্চা তো সবাই করতে পারি। আমাদের কন্যাশিশুদের জন্য একটা নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলি।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj