ফরিদপুরে অপহরণ করে ধর্ষণ মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন : সুবর্ণচরে ফের গণধর্ষণ, আটক ৩

সোমবার, ৫ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : ফরিদপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এদিকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ফরিদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষক, বগুড়ার ধুনটে কৃষক এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মাদারীপুরে ধর্ষণের শিকার হয়ে ২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফরিদপুর : ফরিদপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে ৩ বছর আগের এক মামলায় ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আলমগীর কবির এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা হলো- উজ্জ্বল খান (২৫), শুকুর আলী (২৬), মিরাজ শেখ (২৫), ইলিয়াস বেপারি (২০) এবং শফি মোল্লা (২৫)। তাদের বাড়ি চরভদ্রাসন উপজেলার সালেপুর গ্রামে। আসামিরা পলাতক রয়েছে। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি বিচারক আসামিদের এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন এবং অনাদায়ে তাদের আরো ৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল চরভদ্রাসন উপজেলার সালেপুর গ্রামের দুই স্কুলছাত্রীকে আসামিরা অপহরণের পর দল বেঁধে ধর্ষণ করে এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক ছাত্রীর বাবা ওই বছরের ১১ জুন চরভদ্রাসন থানায় ৫ জনকে আসামি করে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

নোয়াখালী : জেলার সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুরে আবারো এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে (২৫) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। গতকাল রবিবার সকালে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে শনিবার গভীর রাতে উপজেলার চর মোজাম্মেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চর মোজাম্মেল গ্রামের মৃত আবদুস সোবহানের ছেলে নূরুল হুদা, একই গ্রামের রবিউল হোসেনের ছেলে নূর উদ্দিন এবং রুহুল আমিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী এবং তার স্বজনরা জানান, শনিবার গভীর রাতে নূর উদ্দিন, দেলোয়ার মাস্টার ও নূরুল হুদা তার ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে ওই নারীকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে রবিবার সকালে তার স্বজনরা থানায় খবর দিলে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, সকালে ভর্তির পর ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলে ধর্ষণের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

চরজব্বর থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে সুবর্ণচরের চরজুবলীতে ১০-১২ জন এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে। এ সময় তার স্বামীকে পিটিয়ে আহত করে তারা। পরে স্বামী ও স্কুলপড়–য়া মেয়েকে (১২) বেঁধে রেখে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তারা। একপর্যায়ে তারা তাকে গলা কেটে হত্যার করতে উদ্যত হয়। এ সময় প্রাণভিক্ষা চাইলে তারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির উঠানসংলগ্ন পুকুর ঘাটে ফেলে চলে যায়। ১৭ দিন চিকিৎসার পর বাড়ি যান ওই গৃহবধূ। এ মামলাটি আদালতে চলমান।

ধুনট (বগুড়া) : উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পাটক্ষেতের ভেতর ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিঠু মণ্ডল (৩০) নামে সেই বখাটে কৃষককে গত শনিবার রাত ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিঠু মণ্ডল উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের নান্দিয়ারপাড়া গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত বুধবার মধ্যরাতে কৃষক মিঠু মণ্ডলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়ে সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক বছর ধরে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় কৃষক মিঠু মণ্ডল। কিন্তু কৃষকের প্রেমে সাড়া দেয়নি মেয়েটি। এ কারণে স্কুলে যাতায়াতের পথে মিঠু মণ্ডল মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে। মেয়েটির পক্ষ থেকে এ বিষয়টি মিঠুর মা-বাবাকে জানানো হয়। কিন্তু মিঠুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বিচার পায়নি মেয়েটি। পরিবারের কাছে বিচার চাওয়ায় মেয়েটির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিঠু। ৩০ জুলাই সকালে নান্দিয়ারপাড়া গ্রামে ফাঁকা মাঠের ভেতর নিজের ক্ষেতে কাজ করছিল। এ সময় মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার পথে টেনেহিঁচড়ে পাটক্ষেতের ভেতর নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে মিঠু মণ্ডল। একপর্যায়ে মেয়েটির চিৎকারে একই মাঠে কাজ করতে থাকা কয়েকজন কৃষক এগিয়ে এলে মিঠু কৌশলে সটকে পড়ে। এ ঘটনায় মেয়েটি বাদী হয়ে ৩১ জুলাই রাতে মিঠু মণ্ডলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে মিঠু পলাতক ছিল।

ফরিদপুর : জেলার সদরপুর উপজেলায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গত শনিবার বিকেলে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল সালাম (৬০) সদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক। মেয়েটিকে সদরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালাম মেয়েটিকে টিভি দেখানোর কথা বলে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন গিয়ে সালামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : উপজেলার আড়পাড়া এলাকায় ৩ বছরের শিশুকে মোবাইলে গেম খেলানোর কথা বলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযুক্ত যুবক আব্দুল কাদের জিলানীকে (২০) আটক করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে আব্দুল কাদের জিলানীকে শহরের আড়পাড়া এলাকা থেকে আটক করে। অভিযুক্ত যুবক শহরের একটি কম্পিউটার দোকানে কাজ করত এবং সে পটুয়াখালীর গলাচিপা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, শনিবার রাতে মোবাইলে গেম খেলানোর কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় আব্দুল কাদের জিলানী। কিছুক্ষণ পর শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় ওই যুবক। শিশুটিকে খোঁজাখুঁজির মধ্যে তার মা বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপর রবিবার দুপুরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির মা। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে।

মাদারীপুর : জেলায় দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একজনকে শনিবার সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরজনকে ৩ দিন আগে ভর্তি করা হয়। পুলিশ বলছে, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজীর হাওলা গ্রামের নূরু তালুকদারের ছেলে শাহাদাত হোসেন পলাশ (৩৫) শহরের শকুনী এলাকার এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসে। এ সময় বাসায় কেউ না থাকায় ওই বাসার ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে। আত্মীয়তার সুবাদে প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে মাদারীপুর সদর থানায় এ ঘটনায় মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

নির্যাতিতা শিশুর মা বলেন, ১৫ জুলাই দুপুরে মেয়েকে পলাশ বাসার ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। যে ধর্ষণ করেছে সে আমার মামাতো ভাই। সে এর আগে ৪টি বিয়ে করেছে। এরপর আত্মীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার জন্য সময়ক্ষেপণ করেন। আমি বিচার না পেয়ে থানায় মামলা করেছি। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

এদিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে গত ২০ জুলাই সকালে জেলার রাজৈর উপজেলার শাঁখারপাড় গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে প্রভাবশালীদের কারণে মামলা নেয়নি রাজৈর থানা পুলিশ।

ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে মোশারফ মোল্লার ছেলে রেজাউল (৩০) জোর করে ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় সালিশদার রাজু মোল্লা, তাজু মোল্লা, দবির মোল্লা মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলেন এবং আমাদের মামলা করতে নিষেধ করেন। এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পরেও মীমাংসা করে দেননি। এরপর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের টাকা নেই। তাই আমাদের পক্ষে মানুষও নেই।

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, পৃথক দুই ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। মামলা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj