ঈদ কাটুক সুস্থতায়

শুক্রবার, ২ আগস্ট ২০১৯

শবনম মোস্তফা

বাঙালি খেতে ভালোবাসে না- এমনটা হওয়ার নয়। আর এই খাওয়ার কারণ যদি হয় ঈদ- মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাহলে তো কথাই নেই। ঈদ উৎসব মানেই খাবারের প্রাচুর্যতা। খাদ্যাভ্যাস বদলে এ দিনই সবাই সকালে নাস্তার টেবিলে বসে পড়েন- মুখে দেন সেমাই, পায়েস, জর্দা, পোলাও, বিরিয়ানি, কোরমা, কালিয়াসহ আরো কত টক, ঝাল আইটেম।

ঈদ মানে প্রচুর খাওয়া; তবে সব খাবার সবার জন্য সমান পরিমাণে নয়। খাবারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যগত সমস্যা এড়িয়ে ঈদ হয়ে উঠবে আরো আনন্দময়।

** ঈদের দিনে বদহজম একটি অতিসাধারণ ঘটনা। হঠাৎ করে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার যেমন পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, রেজালা ইত্যাদি খেলে বদহজম, এসিডিটি ও ডায়রিয়া হতে পারে। তাই বারবার অল্প খাওয়া ভালো। খাবারের সঙ্গে টক দইয়ের সালাদ, বোরহানি ইত্যাদি হজমের সহায়ক।

** ঈদের দিন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ঘুরে প্রায় সারাদিনই এটা-সেটা খাওয়া হয় ইচ্ছায় কিংবা অনুরোধে। এ ক্ষেত্রে রাতে দাওয়াত থাকলে দুপুরে বাড়িতে তেলমসলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার খান। অবশ্যই রাতের খাওয়ার ২/৩ ঘণ্টা পর ঘুমোতে যাবেন।

** খাবারের ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর পানি পান করুন। আসুন এবারের ঈদে অতিথি আপ্যায়নে কোমল পানীয়ের বদলে আমরা বাড়িতে তৈরি ফলের রস, লাচ্ছি কিংবা বোরহানি পরিবেশন করি।

** খাবার তালিকায় মাংস পোলাও বিরিয়ানির সঙ্গে রাখুন সবজি ও সালাদ। শসা, টমেটো, লেবু, গাজরের সালাদ এবং আঁশযুক্ত সবজি প্রতি বেলার খাবারের সঙ্গে যেন থাকে সে ব্যাপারে লক্ষ রাখুন। সালাদ আগে থেকে কেটে রাখবেন না। তৎক্ষণাৎ কেটে পরিবেশন করুন। সালাদ এবং আঁশযুক্ত সবজি খাবারের চর্বি শরীরে শোষিত হতে বাধা দেয়।

** সেমাই ছাড়া আবার ঈদ হয় নাকি? সেমাই, পায়েস ক্যালসিয়ামের উৎস। এ ছাড়া সেমাই-পায়েসের সঙ্গে বাদাম, কিশমিশ যোগ করলে পুষ্টিমান আরো বেড়ে যায়। তবে ডায়বেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তারা বরং টক খাবারের মাধ্যমে রসনা পূরণ করতে পারেন। সবজি বা টক ফল দিয়ে মজাদার খাবার আগেই বানিয়ে রাখুন। পোলাও বিরিয়ানি তৈরিতে বাসমতি চাল বেছে নিন।

** যারা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা ডায়বেটিসে ভুগছেন, তারা অবশ্যই পরিমাণমতো খাবেন। অতিরক্ত তেল-মসলা এড়িয়ে যাবেন। পোলাও বিরিয়ানি যে কোনো একটি একবেলা খাবেন; মগজ-কলিজা এড়িয়ে যাওয়া ভালো; খাবারের সঙ্গে সালাদ, টকদই, লেবু খাবেন। দিনের কোনো এক সময় অবশ্যই ৩০ মিনিট হেঁটে নেবেন।

** কিডনির সমস্যা থাকলে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য, যেমন- মাছ-মাংস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিনে দুই টুকরোর বেশি নয়। ফল খাবার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পুষ্টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নেয়া উচিত ঈদের আগেই।

** এছাড়া আইবিএস থাকলে দুধের তৈরি আইটেম না খাওয়াই ভালো। তবে খাবারের সঙ্গে বোরহানি, টক দই খেতে পারেন।

** যাদের পেপটিক আলসার আছে, তাদের তৈলাক্ত ও ঝাল মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।

** যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, উৎসব-আনন্দে তাদের ওষুধ সেবন যেন বাদ না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

** খাওয়ার সময় গল্প কম করুন এবং খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান। কেননা খাওয়ার সময় বেশি কথা বললে পাকস্থলিতে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে ঢেঁকুর ওঠার সমস্যা হতে পারে।

সব ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা এড়িয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ পরিমিত মজাদার খাবারের সঙ্গে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে সময় কাটুক আনন্দে, হাসিমুখে।

শুভ কামনায়

নিউট্রিশন কনসাল্টেন্ট

শিওরসেল মেডিকেল [বিডি] লি.

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj