জামিন মেলেনি মিন্নির নিরাপত্তাহীন পরিবার

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯

সঞ্জীব দাস, বরগুনা থেকে : বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রবিবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আদেশ দেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে মিন্নির পক্ষে জামিনের আবেদনটি করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী আসলাম। তার সঙ্গে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দুইজন এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লুাস্ট) সাতজনসহ মোট ১৩ জন আইজীবী শুনানিতে অংশ নেন। মাহাবুবুল বারী আসলাম শুনানিতে উল্লেখ করেন, মিন্নি শারীরিকভাবে অসুস্থ, তার কাছ থেকে জোর করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি সঞ্জিব দাস, এডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজসহ প্রায় ৪০ জন আইনজীবী। তারা বলেন, এ মামলায় মিন্নিসহ ১৪ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। তাদের জবানবন্দিতে কি আছে তা রাষ্ট্রপক্ষ জ্ঞাত নয়। এ অবস্থায় আসামিরা জামিন পেলে মামলায় প্রভাব পড়বে এবং তদন্ত বিঘ্নিত হবে।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর মিন্নির বাবার বাড়ি থেকে পুলিশের ডিউটি পোস্ট উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এরপর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবারের সদস্যরা। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মিন্নির ছোট ভাইবোন। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের চার ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ে ফাতিমা আক্তার মুনাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে বরগুনা পৌর শহরের কাঠপট্টি এলাকায়। এরপরই মিন্নি। ছোটমেয়ে সামিরা মেঘলা বরগুনার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও ছোট ছেলে আবদুল মুহিত কাফি বরগুনার কলেজ রোড এলাকার কিলিং একাডেমির কেজি-টু শ্রেণির ছাত্র। বোন মিন্নিকে গ্রেপ্তারের পর আতঙ্কিত ছোট ভাইবোন স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মিন্নির ছোট বোন সামিরা মেঘলা জানান, আমরা ভয়ে আছি। আমার দুলাভাইকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এখন বোনকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। মনে হয় কেউ আমার ওপর হামলা করতে পারে। ছোট ভাই আবদুল মুহিত কাফি বলে, আমার স্কুলের সামনেই রিফাত ভাইয়াকে কুপিয়ে মারা হয়েছে। এখন আমার স্কুলে যেতে ভয় লাগে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত শনিবার কারাগারে মেয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি দাবি করছেন, মিন্নিকে ফাঁসিয়ে একটি মহলের খুনিদের আড়াল করতে চাইছে পুলিশ। পরিবারের সব সদস্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। পুলিশ কাদের রক্ষা করতে চাচ্ছে, তিনি তা জানতে চান। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, মিন্নির পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছে, তা আমাদের জানায়নি। যদি তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা তাদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেব।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj