জাপানে অগ্নিকাণ্ড ; ‘গল্প চোর’ সন্দেহে স্টুডিওতে আগুন দেয় হামলাকারী

রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : তার গল্প চুরি করে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে, এই ধারণায় জন্ম নেয়া ক্ষোভের কারণে জাপানের কিয়োটো অ্যানিমেশন স্টুডিওতে আগুন ধরিয়ে দেন ৪১ বছর বয়সী শিনজি আওবা। জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলো গত শুক্রবার এ ধরনের খবর প্রকাশ করে।

কিয়োটো অ্যানিমেশন স্টুডিওতে গত বৃহস্পতিবার সকালে লাগা আগুনে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো ৩৬ জন; যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাপানে গত প্রায় দুই দশকের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। ওই দিনই পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শিনজি আওবাকে গ্রেপ্তার করে। আওবা নিজেও আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালেই তাকে পুলিশ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সরিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অবশ্য আওবার অতীত অপরাধের ইতিহাস আছে। এর আগে ২০১২ সালে টোকিওর পূর্বাঞ্চলে একটি সুপারশপে ডাকাতির ?অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে যেতে হয় তাকে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সাবেক কয়েদিদের বসবাসের জন্য সরকারি ব্যবস্থায় তৈরি একটি হোমে থাকতেন। তাকে মনরোগের চিকিৎসাও নিতে হয়েছে বলে জানায় জাপানের জাতীয় স¤প্রচার মাধ্যম এনএইচকে।

স্টুডিওটির কাছে একটি পেট্রল স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ আওবাকে সন্দেহ করে। ওই ফুটেজে আওবাকে স্টুডিওতে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে পেট্রল স্টেশন থেকে দুটি কনটেইনারে পেট্রল ভরতে দেখা গেছে।

পুলিশের ভাষ্য, হামলাকারী কিয়োটো অ্যানিমেশন কোম্পানির স্টুডিও ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারদিকে দাহ্য তরল পদার্থ ছিটিয়ে দেয়। আগুন লাগানোর সময়েও তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, তোমরা মরো! আটক হওয়ার পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করে বলেন, তার বিশ্বাস ওই স্টুডিও তার উপন্যাস চুরি করেছে। এ জন্য তিনি সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন। যদিও পুলিশ এ বিষয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj